শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৫

ভালবাসার শুরু যেখানে

পরিচয় টা হয়েছিল একদম শুরুর দিকে , একদম ছোট বেলায়,সেই হাফ প্যান্ট পরে স্কুলে যাওয়ার ও আগে, বুঝতে শেখার কিছু পরেই। সেই স্কেক্রেড হার্ট স্কুলে পড়ার দিনগুলাতে। আর প্রথম দেখা হয়েছিল জন্মের পর পরই। 
১৯৯৭ শালে যখন স্কুল লাইফের শুরু তখন আব্বুর একটা সিডিআই বাইক ছিল। প্রত্যেক দিন আব্বু বাইকে করে স্কুলে দিয়ে আসত আবার নিয়ে আসত। ট্যাঙ্ক এর উপর বসে পড়ে যেতে পারি এই ভয়ে আব্বু দুই লুকিং গ্লাসের রড কানেক্ট করে আর একটা এক্সট্রা রড লাগিয়ে দিয়েছিল ওটা ধরে আমি বসে থাকতাম আর আব্বু চালতো।এভাবেই শুরুটা হয়েছিল বাইক কে ওই বয়সে এতটাই ভাল লেগেছিল যে যদি কোন কারনে আব্বু একদিন ব্যাস্ত থকতো আর আমার রিকশা করে স্কুলে যাওয়া লাগতো আমি যাইতে চাইতাম না বাইনা ধরতাম বাইকেই যাব। মায়ের কাছে কত বকুনি শুনেছে এই জন্য বাবা বকত না কাজ টা দ্রুত শেষ করে বাইকে করে ঠিকই বাসায় নিয়ে আসত আমাকে। দেখতে দেখতে সামনে বসার দিন গুলা শেষ হয়ে গিয়েছিল সামনের থেকে আমার সিট হল পিছনে আব্বুর মাজা ধরে শক্ত করে পিছনে বসে থাকতাম। আর সামনের সিট টা তত দিনে দখল করে নি আমার ছোট বোন। তারপর জিলা স্কুল শুরু হল তখন ও বাবার সাথে বাইকে করে যাই আর মাঝে মাঝে রিকশা কিন্তু বাইনা করার লেভেল টা তখন কমে গিয়েছিল।২০০৪ এ ক্লাস সিক্স এ থাকতে বাবা সুযুকি সামুরাই নামে সবুজ রং এর আরেক টা বাইক কিনলো। তখন থেকেই বাইকের পিছনের সীট থেকে সামনের সীটে বসার একটা লোভ হতে থাকলো।। বাসায় যখন বাইক টা পার্ক করা থাকত ডাবল স্ট্যান্ডে তখন সুযোগ পেলেই চালানোর অভিনয় করতাম মুখ দিয়ে হর্ন দিতাম। মাঝে মাঝে চাবি টা চুরি করে এনে শুধু হর্ন বাজাতাম। তারপর লেভেল টা আরেকটু বাড়ালাম বাইক টা যখন আমাদের বাসার সামনেই উঠানে থাকত স্ট্যান্ড তুলে ঠেলে ঠেলে চালাতে ট্রাই করতাম অনেক ভারি লাগত বাইক টা। তবুও চেষ্টা করতাম। আমার এত আগ্রহ দেখে আব্বু একদিন নিজে থেকেই আমাকে বাইক চালনো শেখাবার উদ্দোগ নিল সামনে বসিয়ে গিয়ার কি, ক্লাচ কি, এক্সেলেটর কি , ব্রেক কি , চোক কি সব ধীরে ধীরে চিনিয়ে দিল বাসার মাঠে আব্বু কি বসিয়ে চালাতে চেষ্টা করতাম। এভাবেই ২০০৫ এর একদম শুরুতেই মোটামুটি ভালই চালানো শিখে গেলাম আমি। সেই সুযুকি সামুরাই এর একটা নেট থেকে নামানো ছবি যেটাতে করে শিখেছিলাম। বেশীর ভাগ সময়ই চালানোর অনুমতি পেতাম না তাই তখন ঠেলে চালানোর অভ্যাস টা থেকে গিয়েছিল। কিছুদিন পর বাইক টা আমাদের বাসা থেকে চুরি হয়ে যায় । অনেক কষ্ট পেয়েছিল আব্বু তার থেকেও বেশী পেয়েছিলাম আমি। অনেক খোজাখুজি করেও কোন লাভ হল না আব্বু তাই সেম জিনিস সেম কালারের আরেক পিস কিনলো। স্কুলের শেষ দিন গুলাতে আমি আর সেবা সুযোগ পাইলেই বাইকটা নিয়ে বেরিয়ে যেতাম। আর উৎসব এর ও একটা সি ডি ছিল ওকে কোন দিনই ধরতে পারতাম না শুধু ধোয়া দেখতাম সামনে। দুঃখজনক ভাবেই এই বাইকটা আবারো চুরি হয়ে যায়। এবার খোজাখুজির পর কিছুটা খোজ পাওয়া যায় অনেক ঝামেলা করে উদ্ধার হয় কিন্তু কন্ডিশন খুব খারাপ হয়ে যায়। তবুও চালাতাম। কত বার ঠেলে ঠেলে স্টার্ট দেওয়া লাগছে :P
তারপর ঈদ আসলেই হইছে বাইকটা নিয়ে সারা যশোর টাউন ঘুরে বেড়াতাম।।
বাবা বলেছিল এস এস সি তে গোল্ডেন পেলে বাইক কিনে দিবে আমাকে আমি পেয়েছিলাম আর বাবা কথা রেখেছিল যদিও একটু দেরী হয়েছিল তবুও আমাকে একটা লাল পালসার ১৩৫ এল এস কিনে দিয়েছিল সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে কি যে মজা লাগত কলেজে যেতে ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে দেখতাম কিছু সিনিয়র বাইক নিয়ে আসতো কলেজে আর সেকেন্ড ইয়ারে আর দেখে কে লাল বাইক লাল হেলমেট পুরাই পাংখা লাগত আমার নিজের কাছে। তারপর বিকালে আব্র কোচিং এ যাওয়া। নিচে বাইক রেখে ভীতরে থেকে বরাবরই টেনশন হত আমার। সারদিন খালি ঘুরে বেড়াতাম প্রত্যেকদিন বাইপাস ক্যান্ট এর মেইন এন্ট্রেন্স যার যেখানে দরকার ছিল ছুটতাম খালি। এভাবেই ছোট থেকে দেখতে দেখতে কখন যে ওর প্রেমে পড়ে গেছি জানি না, বাইক মানেই ভালবাসার বস্তু বাইক মানেই ফিল।
২০১২ তে চুয়েট ভর্তি হবার পর মনে হল আর ১৩৫ না এবার ১৫০ এর পালা লাল পালসার ১৩৫ বিক্রি করে দিয়ে কিনে ফেললাম কালো পালসার ১৫০ যেটা আজ অব্ধি আছে। আমি এখন চট্টগ্রামে থাকি আর বাইক টা থাকে যশোরে। অনেক বুঝাইলাম বাবাকে বাবা আমার আর বাইকের প্রেম টা বুঝলোই নাহ :( তার এক কথা এত দূরের শহরে বাইক দিব না, দিন গুলা এখানে বিরহে কাটে আমার , একাকিত্ব ফিল করি আমি , কালো পালসার সামনে দিয়ে গেলে বুকের ভেতর কেমন যেন করে ওঠে। অন্যরা যখন ফিল করে ক্যাম্পাসে তাদের একটা গার্লফ্রেন্ড থাকা দরকার তখন আমি ভাবি ক্যাম্পাসে আমার বাইক টা থাকলে কত্ত না রোমান্সিং হত :)

শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪

ব্রেক আপ

আশকার সাথে আমার ব্রেক আপটা খুব সাদা মাটা ভাবেই হয়ে যায়। আর আট দশটা প্রেমের মত খুব ঘটা করে রিলেশন ব্রেক হয় নি আমাদের খুব ঝগড়া-ঝাটির পর পুনরায় মিলে যাওয়ার চেষ্টাই বিফল হয়ে যে ব্রেকটা হয়েছে তাও না খুব সাধারন কয়েক লাইনের একটা এস এম এস দিয়েই আমাদের শেষ টা হয়।কোন এক তপ্ত রোদেলা দুপুরে আমি তাকে ফার্মগেট থেকে মনিপুরিপাড়া পৌছে দিই আর ঐটাই ছিল আমদের এখন পর্যন্ত শেষ দেখা।তারপর আজ অবধি কেটে গেছে ৬ টি মাস।একটি বাক্যও বিনিময় হয় নি আমদের হয় নি একটি এস এম এস ও চালাচালি।
আশকার সাথে ব্রেকটা যেমন আমার খুব সাধারন ভাবেই হয়েছে তেমনি রিলেশন টাও খুব অদ্ভুদ ভাবেই হয়ে ছিল।ওর সাথে আমার রিলেশান হওয়ার কোন কথাই ছিল না কেননা প্রথমত আমরা সমবয়সি ছিলাম না আমরা একই এলাকায় থাকতাম না । এমনকি আমরা একই স্কুলেও পড়তাম না। তবুও রিলেশান টা হয়ে গিয়েছিল কিভাবে যেন।  কোন এক ঈদের পরের দিন বাইকে ঘুরছিলাম আমরা আর তখন বাইপাসে আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যায় তার অনেক দিনের পুরানো এক বান্ধবীর সাথে আর সে মেয়ের ছোটবোন ছিল আশকা ।আর আশকা আসার আগের কাহিনীটাও ছিল খানিক টা মজার খানিকটা দুঃখের । আমি যশোরে যাদের সাথে চলাফেরা করতাম তাদের বেশির ভাগেরই বালিকা বান্ধবী তথা গার্লফ্রেন্ড ছিল দেখা যেত কখনো এমন হত যে ওরা সবাই ফোনে কথা বলত আর আমি একা একা মোবাইল চাপতাম আর আমার এই অবস্থাটা হয়ত আমার বন্ধুদের কষ্ট দিত আর তাই ওরা চাইত যে আমার ও একটা প্রেম হয়ে যাক আমি ওদের মত ফোনে কথা বলি আর সেই থেকে ওরা আমার জন্য খুজতে থাকে একজন বালিকা ফেসবুক থেকে শুরু করে যে যেমনে পারসে আমার জন্য প্রচারনা করেছে আর সেই থেকে ফ্রেন্ড এর বান্ধবীর ছোট বোনের সাথে রিলেশন হয়ে যায় আমার কোন এক মধ্য রাতে মাত্র দুই দিনের কথা বলাতে জানি না এত তাড়াতাড়ি কিভাবে হয়ে গিয়েছিল ।
দশ মাসের রিলেশনে ও আমাকে দিয়েছে অনেক কিছুরই প্রথম অভিজ্ঞতা প্রথম চুম্বন প্রথম কাছে আসা প্রথম একসাথে হাত ধরা প্রথম একসাথে ঘুরতে যাওয়া প্রথম এক রিকশাতে দুই জন ঘোরা প্রথম স্পর্শ ওর কাছ থেকেই পায়। সত্য বলতে আমার প্রথম প্রেম ও কিন্তু প্রথম ভালবাসা না। জানি না আমি ওর প্রথম ছিলাম কিনা কিন্তু ও ছিল আমার প্রথম প্রেম।
দশটা মাস আমরা কিভাবে পার করেছি আমার ঠিক বোধগম্য হয় না । মাসের সংখ্যা টা দশ হলেও আমার কাছে ওটাকে ঠিক অনন্তকালই অনুভূত হয়। শুরুটা মোটেও খারাপ ছিল না আর আট দশটা প্রেমের মত খুব রঙ্গিন প্রেম ছিল আমাদের প্রেম অবশ্য সেটা খুব অল্প দিনের জন্যই টিকে ছিল।সত্য বলতে আমরা যেটা করেছি সেটা প্রেম ছিল কিনা আমার ঠিক অবিশ্বাস হয়। প্রথম কয়েকটা মাস বেশ ভালই ছিল তারপর যে কোন কারনেই ওটা খুব দুর্বল হতে থাকে। রঙ্গিন সপ্ন দেখা গুলা থেমে যেতে থাকে ওর পক্ষ থেকে হয়তবা আমারই কারনে । আমার ঠিক মনে পড়ে না । আমি চট্টগ্রামে বেশ ব্যাস্ত জীবন কাটাতে থাকি আর ক্রমশ ই দুর্বল হতে থাকে প্রেম। তত দিনে ও অবশ্য বেশ এডিক্টেড হয়ে পড়ে আমার প্রতি আমার সাথে একটু রাগারাগি হলেও হাত কাটা ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়া ইত্যাদি করে ফেলত ও। আমার ঠিক ভয় হত।আমি খুব অসহায় লাগত। নিজেকে অনেক ক্ষুদ্র লাগত। মনে হত জীবন টা একেবারেই থেমে গেছে এর আর কিছুই হবার নেই। মনে হত বেশি দিন বাচব না । আমি মনে প্রানে চাইতাম ওর কাছ থেকে বেরিয়ে যেতে খুব চাইতাম।সে জন্য যোগাযোগ কমিয়ে দিতে থাকতাম । রোমান্স ছিল না দায়িত্ব বা কর্তব্য থেকে তিন চার দিন বাদে একদিন ফোন দিতাম।বুঝতাম ও অনেক রেগে বা দুঃখে আছে কিন্তু সত্য বলতে আমার পক্ষ থেকেও কিছুই করার ছিল না আমি ঠিক নিরুপায় ছিলাম।এর মাঝে ও একদিন রাতে হঠাত ফোন করে বলে যে তার বাসা থেকে নাকি বিয়ে ঠিক করছে তাই সে পালায়ে ফ্রেন্ডের বাস্য আসছে আর আমাকে তক্ষুনি তাকে বিয়ে করতে যেটা আমার পক্ষে পুরা মাত্রাই অসম্ভব ছিল আমি বাবা মায়ের এক মাত্র ছেলে অনেক প্রত্যাশা তাদের আমাকে ঘিরে আমি এমন কাজ করতে পারি না যেটা তাদের কষ্ট দেয়।তাই আমি বুঝিয়ে শুনিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এভাবেই চলে যাচ্ছিল।এর মধ্য রমজান মাস এসে যায় ২০১৩ সালের। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয় আমি ঢাকা যায় ,ওর সাথে একবার দেখা করার জন্য ওকে আসতে বলি ও রাজি হয় আমরা ফার্মগেটে দেখা করি। আমার সাথে আমার এক কাজিন ও ছিল । তাকে বসিয়ে রেখে  আমি ওকে মনিপুরি পাড়ায় ওর বাসা পর্যন্ত আগায় দিয়ে আসি আর পরের দিন আবার দেখা করার কথা বলে চলে আসি।রাত অবধি আড্ডা দিয়ে বাসায় এসে একটা মেসেজ পায় আশকার । তাতে লেখা ছিল তুমি আমাকে আর ফোন দিবা না আমি তোমার সাথে আর রিলেশান রাখতে পারব না। আমি তার কোন রিপ্লাই বা ফোন দিই নাই… দিন টা ছিল ২১-০৭-২০১৩ । তারপর আজ ১৮-০১-২০১৪ আজ অব্ধি আমি তাকে আর ফোন দিই নি এর মাঝে সে আমাকে অনেক বার ফোন মেসেজ দিয়েছে আমি কোন রিপ্লাই বা আন্সার করি নাই। একসময় বাধ্য হয়ে তার নাম্বার আমি ব্লাক লিস্টে ফেলে রাখি তখন সে নিত্য নতুন নাম্বার দিয়ে আমাকে ফোন দিতে লাগল আর আননোন নাম্বার আমি রিসিভ করা পুরাপুরি বন্ধ করে দিলাম। সব শেষ সে আমাকে থার্টি ফার্স্ট নাইটে অনেক দুঃখ ভরা মেসেজ দেয় যেটা দেখে সত্যিই আমার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হয়েছিল যে আমি কি ভুল করলাম ওকে ছেড়ে দিয়ে । তারপর রাগে দুইটি ফোন থেকে দুইটা সীম জিপি আর এয়ারটেল নিয়ে ভেঙ্গে ফেললাম একবারে।তারপর এই আছি। এই ঘটনার কয়েক দিন বাদে আমার অনেক পুরানো আমলের এক স্কুল ফ্রেন্ডের সাথে দেখা সে আমাকে আশকার কথা জিজ্ঞাস করে আমি তাকে বলি সব। তারপর তার সাথে কথা বলে আমি যা বুঝলাম সে হচ্ছে আশকার নতুন বয় ফ্রেন্ড। আমি তাকে কংগ্রেটস করলাম মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম। আমি সত্যিই অনেক খুশি হয়েছিলাম। আমি চাই আশকা অন্য কাউকে নিয়ে অনেক সুখি হোক , আমি হয়তবা ঠিক তার যোগ্য ছিলামা না । বা ঈশ্বর ও হয়তবা এতা চাইতেন না আমার মনে হয়।

অনেক দিন বাদে সত্যিই অনেক ভাল লেগে ছিল সেদিন ।ওদের প্রেম ভালবাসা অনেক রঙ্গিন আর সুন্দর হোক এই কামনায় আমি করছি। শুভ প্রেম হোক ওদের। । । ।


চট্টগ্রামে থাকি

চট্টগ্রামে থাকার গল্পটা(আসলে এটাকে ঠিক গল্প বলা যায় না তবুও ভাল লাগে গল্প শব্দটা শুনতে তাই এখানে গল্প শব্দটাই ব্যাবহার করছি) কিভাবে যেন হঠাৎ করেই শুরু হয়ে গিয়েছিল কোন এক বছরে একুশে ফেব্রুয়ারী সারা দিন বাস ভ্রমন করে যশোর থেকে চট্টগ্রামে এসে ভর্তি হয়ে গেলাম দুঃখিত চুয়েটে এসে ভর্তি হয়ে গেলাম তার পর থেকে গল্পটা শুরু হয়ে গেল একদম নবীন এক শিশুর গল্প যে নতুন করে বেড়ে উঠতে থাকলো চট্টগ্রামে, চট্টগ্রামের আলোতে চট্টগ্রামের বাতাসে ।
আর সবার মত সপ্ন আমিও দেখতাম ঢাকায় থাকবো , জীবনের ২০টা বছর কাটিয়ে দিয়েছিলাম ছোট্ট এক মফস্বল শহরে যে শহরের প্রতিটি রাস্তা প্রতিটি গলি প্রতিটি বাড়ি আমার কাছে যাদুর মনে হত আমি অবাক হয়ে যেতাম ভাবতাম এত মায়া কেন এই শহরের এত ভালবাসা !!!! তবুও জীবনের বৃহৎ স্বার্থে আমাকে তাকে ছাড়তে চেয়েছিলাম ভেবেছিলাম ঢাকার কোন এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে  ভর্তি হয়ে যাব আমার বাবা মা তাই চাইত। চট্টগ্রামে থাকব এমন কোন পরিকল্পনা আমার কখনো আসে নি চট্টগ্রামে থাকার গল্পটা তবুও হয়ে গিয়েছিল।অন্য সবার মত আমি চট্টগ্রামে থেকে গেলাম।
চট্টগ্রামে থাকাটা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে হঠাৎ করেই আমার কাছে মনে হয় আমি যশোরে একদিন ঘুম দিলাম আর ঘুম ভেঙ্গে দেখি আমি চট্টগ্রামে এক টা বিশাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আর অসংখ্য অপরিচিত মুখ আমি অবাক হয়ে ভাবতাম এত মানুষ কেন!!!! আমার পাশে শুধু একজন পরিচিত মানুষ ছিল সৌরভ ভাই আমাকে যে চট্টগ্রামে পৌছে দিতে এসেছিল। শক্ত করে আমার হাত টা ধরে পৌছে দিয়েছিল অডিটোরিয়ামে আমি হতবাক পথ ভোলা এক শিশুর মত ঢুকে পড়লাম অডিতে যে শিশুটি জানতও না কোথায় গিয়ে বসতে হবে কার কাছ থেকে শুনতে হবে কোথায় তার ডিপার্টমেন্ট।।তবুও সে বসে গিয়েছিল শেষের দিকে একটা চেয়ারে যেখানে তার ফোনে পরিচয় হওয়া দুই ডিপার্টমেন্ট এর বন্ধুর সাথে...
তারপর তাদের সাথে ছেলেটা বারতলা বিল্ডিং এ পৌঁছে গেল কখন ঠিক তার মনে হয় না।। অরিয়েন্টেশন হয়ে গেল ছেলেটা দেখে নিল একটা বিশাল রুম ৩০ টা চেয়ার অসংখ্য টেবিল আর কয়েকশ টিউব লাইট ঝোলানে ছেলেটা অবাক হয়ে ভাবলো একটা রুমে এতগুলা টিউব লাইটের কি দরকার!!!!
কিছুক্ষন পর ছেলেটা পানি খওয়ার জন্য বের হল আর দরজার কাছে দুই জন তাকে আটকালো অস্মভব ঝাড়ি দিল নবীন ওই শিশুটি এক বারের জন্য বুঝতেও পারলো না কি তার ভুল ছিল বা কি সে করেছিল তবুও তার চট্টগ্রামে থাকার গল্পটা কিছুতেই থেমে গেল না ঠিক শুরু হতে লাগল।।
সারা দিনটা কেটে গেল হলের ছিট পাওয়ার জন্য জন্য হল প্রোভোস্ট দের কাছে নিজেকে প্রমান করতে হল হ্যা আমি অনেক দূর থেকে এসেছি আমার চট্টগ্রামে কেউ নেই তবুও স্যার দের ঠিক বোঝানো গেল না অন্য অনেক গুলা অপরিচিত ছেলের মত আমিও একটা রুম পেয়ে গেলাম যেটাতে ৬ জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে ১২ জন কে থাকতে দেওয়া হল তবুও আমার চট্টগ্রামে থাকাটা আটকে গেল না।

ওই যে শুরু হল থাকা তারপর থেকে আজ অব্ধি কেতে গেল ২ টা বছর চট্টগ্রামে থেকে গেলাম ভালবেসে ফেললাম তাকে।।যশোরের পর যাকে আমার ২য় হোম বলে মনে হয়...
দুই বছরের চট্টগ্রাম বা চুয়েট বা হল লাইফের প্রাপ্তি টা অনেক।। অন্য অনেকের মত একটা ভাল গুন আমার নেই তা হচ্ছে চট করে কারো সাথে মিশে যাবার ক্ষমতা ব্যাপার টা হতে একটু সময় লাগে।। তবুও এমন কত জন কে পেয়ে গিয়েছিলাম যাদের কে আমার টেনে নিতে হয় নি তারাই আমাকে তাদের কাছে টেনে নিয়েছিল এই তো তাদের সাথে ওই নবীন শিশুটির পথ শুরু হয়ে গেল সবাই নবীন ছিল কেউ কারো থেকে বেশী অভিজ্ঞ ছিল না তবুও সবাই সবাইকে ধরে ছিল।। দুই বছরের লাইফের তিক্ত অভিজ্ঞতাটাও নেহায়েত কম ছিল না র‍্যাগ এর শিকার ওই ছেলেটা অসংখ্য বার সিনিয়র দের হাতে নাস্তানাবুদ হয়েছে চরম মাত্রায় র‍্যাগিং শিকার ঐ ছেলেটা তবুও চট্টগ্রামে থেকে গিয়েছিল জানি না কার টানে কিসের টানে ।।
ছেলেটা যে সাবজেক্টে পড়ে তার নাম হচ্ছে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা শহর আর গ্রাম নিয়ে তার পড়াশুনা ছেলেটা শহর খুব ভালবাসে কিন্তু গ্রাম তার খুব একটা ভাললাগে না গ্রামের অসাধারন ছবি তাকে মুগ্ধ করে কিন্তু তবুও গ্রাম তার কিছুটা অপ্রিয়। তবু ছেলেটা ঠিক শুরু করে নিয়েছিল শুরুর দিকে তার ছিল ব্যাসিক ডিজাইন হাবি জাবি সব আকাআকি ছেলেটা আকাআকি একদমই ভালবাসতো না কারন আকাকাকি সে ভাল পারেনা তারপর কিছু দিন পর ছেলেটার সাব্জেক্ট টা ভাল লেগে গেল যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে যায় ছেলেটা ঢাকায় থাকার শেষ অপচেষ্টা হিসাবে আরেক বার সুযোগ নেওয়ার জন্য একদিন সবার থেকে বিদায় নিয়ে ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নিয়ে সি এন জি ডাকতে চলে গেল যদিও তাকে সবাই খুব বোঝালো তবুও সে কিছুতেই বুঝলো না কিন্তু দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্য যাই বলি না কেন ঐ দিন একটা সি এন জি ও সরাসরি জি ই সি যেতে রাজি হল না ছেলেটা একটা  আফ লিটার ফান্টা কিনল তারপর উলটা দিকে হেটে রুমে ফিরে এসে বলল যাব না থেকেই গেলাম ওই সেই যে থেকে গেলাম আর আজও আছি একন এই যে আমি আমার হলে বসে লিখছি এর মধ্য কিভাবে যেন কেটে গেল কিছুতেই কিছু বুঝতে পারলান না তবুও।
২ বছর চট্টগ্রামে থেকে যেমন অনেক ভাল বন্ধু পেয়েছি তেমনি অনেক মজার দিন রাত কাটিয়েছি কত জায়গায় টুর দিয়েছে কত রাত না ঘুমিয়ে গল্প করেছি প্রজেক্টের কাজে কত রাত জেগেছি কোন দিন আফসোস হয় নি কেন থেকে গেলাম...
তারপর এই যে ভালই আছি মুল লেখার উদ্দেশ্য ছিল গতকাল আমাদের ব্যাচের মানে ১১ ব্যাচের ক্যাম্পাস লাইফের দুই বছর পূর্ণ হয়ে গেল যদিও মূল লেখা থেকে বের হয়ে এসে অনেক কথা বলে ফেললাম জানি এত বড় লেখটা তেমন কেউই কষ্ট করে এসে শুনবে না তবুও নিজেকেই বলে গেলাম না হয়।।
আমাদের ব্যাচের একটা নাম দিয়েছে সবাই পেলিনড্রোম ১১ । যদিও এই নামের একটা ব্যাখ্যা আছে পেলিনড্রোম মানে হচ্ছে এমন সংখ্যা যাকে আগে পিছে করলে কোন পরিবর্তন হয় না ১১ কে আগে পিছে করলেও কোন চেঞ্জ হয় না আমরা বিশ্বাস করি ১১ মানেই সবাই এক যতই বিন্যাস সমাবেশ করি না কেন ১১ এগারোই থাকবে তাই ১ দিন পরে হলেও বলছি শুভ জন্মদিন পেলিনড্রোম ১১...
ওবায়দুর রহমান সজল
০৮-০৫-২০১৪
চট্টগ্রাম

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৩

শহুরে অন্ধ কবি

ফাকা রাস্তায় হাটতে হাটতে অথবা দুরন্ত যানের দুরন্ত গতিতে যেতে হঠাত করেই পরিবর্তন হয়ে যায় চারদিক । তার পর শুরু হয় উন্নত জীবনের নিম্নতর ধারা । শুরু হয় গ্রাম থেকে শহর , শহরের রাস্তা , শহরের বিল্ডিং , শহরের আলো , শহরের যানগুলা , আর শহরের সেই মানুষ গুলার ব্যাস্ত পথচলা । জীবনের গতিবেগ। তারপর ব্যাস্ত জীবনের ব্যাস্ত সময় কাটানো । তারপর নির্জনতা । ঘুমায়ে পড়া আর জেগে ঊঠা । । ।
আমি এক অন্ধ কবি ।  আমি খুব শহর ভালবাসি ।অথচ এই আমাকেই থাকতে হচ্ছে জীবনের পড়াশুনার প্রয়োজনে এক গ্রামে কারন আমার বিশ্ববিদ্যালয়টা গ্রামে অবস্থিত । আমার কিছু করার নাই আমাকে গ্রামে থাকতেই হয় ।
আমি খুব শহর ভালবাসি অথচ এই আমি জীবনের প্রথম ২০ টি বছর কাটিয়েছি একটি ছোটখাট মফস্বল শহরে যেখানে ছিল না সুউচ্চ পাহাড় সম বিল্ডিং অসংখ্য যান বড় বড় শপিং মল। । অথচ এখানে ছিল জীবন ধারনের জন্য সব কিছুই বুক ভরে শ্বাস নেওয়া যেত কখনো ভাবতে হত না যে যা নিচ্ছি তা নিরাপদ কিনা । । । তবুও শহর আমি অনেক ভালভাসতাম । ।
আমি খুব শহর ভালবাসি । শহর আমার অনেক ভালো লাগে । শহরের সব কিছুই আমার  ভাল লাগে । ।
শহরের রাস্তার নিয়ন  আলো আমার ভীষন প্রিয় এই আলো ধরে ফাকা রাস্তায় হাটতে আমার ভাল লাগে। যদিও শহর ক্ষনো ফাকা হয় না । সকালে ঘুম থেকে ঊঠে শহরের শব্দ শুনতে আমার ভালো লাগে । 
আমার ভালো লাগে বড় বড় বিল্ডিং শপিং মল । । আর সেগুলা যেখানে এক সাথে অনেক মানুষ পাওয়া যায়। শুহরের রাস্তার পাশে দাড়িয়ে চা খাওয়া , বন্ধুদের সাবথে আড্ডা মারা অথবা বিনা প্রয়োজনে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো। । 
আমি খুব শহর ভালবাসি উচু বিন্ডিং এর ছাদে বসে দুরের আকাশ অথবা নিচ থেকে আকাশের পানে উঠে যাওয়া টাওয়ারের মাথায় জ্বলে থাকা লাল আলো উচু বিল্ডিং এর উপরে ঊঠা বা ক্রমাগত আলোর ঝল্কানি দেখতে । 
আলো আমি অনেক ভালবাসি । শর আর গ্রামের মূল পার্থক্য হচ্ছে আলো শহরে অনেক আলো চোখ ঝলসে যায় গ্রামে আলো অনেক অল্প নিজেকে নিজে দেখতে পাওয়া যায় না। । শহরে অনেক আলো এই জন্য আমি শহর ভালবাসি । । ।শহরের রাস্তায় বাড়ীতে অনেক আলো। । । । । আলোর খেলা । । । ।
আমি খুব শহর ভালবাসি । । । খুব উন্নত শহর। । । ।
আমি খুব শহর ভালবাসি কারন শহরে সব পাওয়া যায় । ।জীবন যেখানে শুরু হয় । তাই শহর । আমি শহর ভালবাসি কারন শহর আমাকে ডাকে । শহরের ব্যাস্ত  রাস্তায় হর্ন  বাজাতে বাজাতে বাইক চালাতে আমার ভালো লাগে  । 
আমি খুব শহর পাগল । 
অথচ আমি গ্রামে থাকি । । । । । । । । । 
আমি শহরে যেতে চাই অনেক বড় শহর । । অনেক সুন্দর শহর । । ।যে শহর কখনোই ঘুমাইনা । আমি সেই শহরেই যেতে চাই ।
আমি খুব শহর ভালবাসি । । । । । । । । ।

মানচিত্র

ঘড়িটা কানের খুব কাছে নিলে ঠক ঠক আওয়াজ শোনা যায় । 
খুব অল্প আলোতে একজন মানুষকে হাটতে দেখলে বঝা যায় না যে মানুষটা আসছে নাকি যাচ্ছে, খুব অবাক লাগে।
প্রতি মুহূর্তেই স্মরন করিয়ে দেয় শেষ হয়ে আসছে সময়। ছোট্ট এই জীবন সময়ে কি থাকা উচিত আর কি বা না থাকা উচিত প্রায়ই ভাবতে ইচ্ছে করে কিন্তু কোথাও একটি যায়গায় গিয়ে বারে বারে আটকে যায় আমি কিছুতেই আর আগায় না বিক্ষিপ্ত চেতনা গুলা, অবশ্য এত ভেবে হবে হবে টাই বা কি আসলে মানুষের জীবন টা একটা ট্রেন গন্তব্যহীন পথে চলা হাতে নিয়ে বসে থাকা এক মানচিত্র বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ট্রেনটা কিছুতেই ওখানে যেতে পারে না, ল্যাপটপের ফ্যানের শো শো শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় কারো কারো। এখনো ঘুমিয়ে পড়েনি পাশের বাসার জিন্স প্যান্ট পরা মেয়েটা, রেডিওর জকি গুলার গলা কিছুতেই থামে না , শীতে কাপতে কাপতে ফেদার টাকে অণ্য কোর্টে পাঠাতে ব্যাস্ত ওরা।
জীওবন খুব অল্প হারিয়ে যাবার পূর্বেই কেউ তাকে হারিয়ে দেয়।অসংখ্যবার ভুল করা অংকটা কিছুতেই মিলে না আমার। এক রাস্তায় থেকে অন্য রাস্তা্র সপ্ন আমি এখনো দেখি ।ভুলে ভরা ঐ ডায়েরী টা আমারই জীবনের একটা অংশ , না বুঝে লেখা কবিতার চরণগুলা আমি আজও বারে বারে মিলিয়ে বাস্তবতার সাথে ।
শেশ হয়ে রাত ফোনের ব্যাটারী লাল হতে হতে একসময় হারিয়েই যায় , অবাক লাগে জীবন এত বৈচিত্র কেন?

রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

ঝাপসা ঝাপসা চোঁখে

ভাবের জগত বড়ই বৈচিত্রময়।এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই ভাবের জগতে থাকে কেউবা বাস্তবে কেউবা অবাস্তবে।আমিও ভাবের জগতে থাকি আসলে সবই অবাস্তব তবুও বাস্তব বাস্তব লাগে।চঁশমা ভাবের জগত আনার একটি অনন্য মাধ্যম।চঁশমা পরার অনেকগুলা অসুবিধার মাঝে একটা অসুবিধা হচ্ছে চঁশমা খুললে দূরের জিনিস সবই দেখা যায় কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কিছু বোঝা যায় না বোঝা যায় কিছু লেখা আছে কিন্তু কিন্তু পড়া যায় না কি লেখা দেখা যায় কেউ একজন আসতেছে কিন্তু কে আসতেছে তা বোঝা যায় না একটা সময় পর্যন্ত খুব খারাপ লাগতো এটা ভেবে ।ভাবতাম ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাচ্ছি আচ্ছা এইটাই কি তাহলে ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যাওয়া? কিন্তু এখন চশমা খুলে যখন বাইরে তাকাই তখন কেমন যেন লাগে ঘোর লাগা ঘোর লাগা ভাব।একটা লাইট ছড়িয়ে যাচ্ছে যাচ্ছেই ১টাকে ৪ থেকে ৫ টা দেখায়।আলো ছড়িয়ে যায়।আরো একটা অদ্ভুদ সুন্দর অনুভূতি হচ্ছে যখন বৃষ্টি হয় আর বৃষ্টির ফোঁটা গুলা এসে চশমার কাঁচে পড়ে আলোতে দেখলে অদ্ভুদ সুন্দর দেখায়।রাতে প্রায় যখন আমি হাটি লম্বা দীর্ঘ প্রায় ফাঁকা রাস্তায় তখন চশমাটা খুলে বুকে ঝুলায়ে দিই । কয়েক মিটার সামনের বস্তুগুলা অস্পষ্ট হতে থাকে।তারপর এভাবে আলো আঁধারের মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলি।আসলে সত্যি কথা বলতে চশমা খুললে নিজেকে জগতের সবচেয়ে অসহায় মানুষের মধ্যে একজন মনে হয়।আসলে মানুষের দুঃখটা অসীম চাহিদা নয়।মরে গেলে চাহিদা শেষ হয় কিন্তু দুঃখ থামে না কোনদিন।চশমা খুললে দুনিয়াটা বড় আজব মনে হয়।ফাঁকা ফাঁকা অদ্ভুদ এক ফাঁকা শূন্যতা ।আচ্ছা এভাবেই কি সব চশমা পরা মানুষগুলা একসময় অন্ধ হয়ে যাবে?

জীবনের গল্প

মানুষের জীবনের গল্প বলতে যাওয়া প্রায় দুরূহ একটা কাজ।প্রায় অর্থহীনও। বটে সবার সাথে কারোও মেলে না প্রায় প্রতিটি আলাদা স্বত্তা ।আমি প্রায় ভাবি চোঁখ বুজে প্রতিটি মানুষের জীবনের গল্পই আসলে এক কিন্তু এক একজন একেকভাবে নেয় একেক ভাবে উপস্হাপন করে।আচ্ছা এটা কি ঈশ্বর কতৃক নির্ধারিত নাকি পুরাটাই কাকতালীয় ? আমি বুঝতে পারি না।সবার জীবনে চাঁদ আসে তারা যায় লোডশেডিং হয়।সবার জীবনের ঘটনা আসলেই এক ।জন্ম নেওয়া বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়া।মূল বেস তো এই তিনটা ।প্রতিটি মানুষের জীবনের একটা রুট থাকে যেই রুট ধরে সে আমৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে ।অসংখ্য বাঁধা ডিঙ্গিয়ে সে যায় যাইতে থাকে এবং প্রায় প্রায় সে পড়ে যায় কেউ হয়ত হাটতে থাকে পাশেই সে না হয় একটু হাতটা ধরে তুলে দেয় আবার চলে যায় অদৃশ্য হয় কখনোই তাকে আর দেখা যায় না।রবীঠাকুর বলেছিলেন যে প্রতিটি মানুষ এক একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ।পরোহ্ম ভাবে তিনিও বললেন প্রতিটি মানুষের জীবনের গল্পই এক।একটা ছেলে বা একটা মেয়ে এখানে খুব একটা তফাত গড়তে পারে না।আপাত দৃষ্টিতে আমি ভাবি আমরা ভাবি অন্যের সাথে আমাদের কত্ত অমিল তবে গল্প এক কি করে হয় ? হয় আসলেই হয় ।দৃষ্টি পরিবর্তন করতে হয় দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হয়।আসলেই সবই সম্ভব চাইলেই সম্ভব।হাত বাড়ালেই আকাশ ছোঁয়া যায় সময় থামিয়ে দেওয়া যায় যদি তুমি চাও।তুমি পার তোমার মত করে।সবার ই একটা ভিত্তি সপ্ন থাকে যা প্রায়ই পূরন হয় না।সবারই একটা ভিত্তি বিশ্বাস থাকে যাকে আঁকড়ে সে বেঁচে থাকে।সবারই কেউ কেউ বিশেষ থাকে যাদের জন্য সে বেঁচে থাকার সপ্ন দেখে।সবারই মেঘ থাকে যেখানে সে ভেসে বেড়াতে পারে।সবারই অশ্রু আছে অনুভূতি আছে সবাই চাই পৃথিবীটা তার মত হোক।একজন কবি একজন ডাক্তার কিন্তু এক দুইজনে ভাবতে পারে একজন মেডিকেল সাইন্সে অন্যজন কলমের কালিতে একজন চিত্র শিল্পী তার রং এ একজন মানুষকে ভাবে কবি কাব্যে ডাক্তার ঔষধে সবাই আসলেই একটা চিকন সুতার উপর দিয়ে হাঁটছে অনেক চিকন যা প্রায় দেখা যায় না।হাঁটতে হাঁটতে পড়ে যায় আবার হাঁটে।অনন্ত এ যাত্রা চলতেই থাকে।প্রতিটি মানুষ একই জিনিস ভাবতে পারে কেউ যুক্তিতে কেউ কল্পনায়।আমি ভাবি আমার মত করে সবাই তার মত করে।এইভাবে পৃথিবী চলে নিজের মত করে ।আর এই তো জীবনের গল্প

সময়ের শেষ বিন্দু

প্রকৃতি বড় নিষ্ঠুর আর বড় অসহায় আমি আমরা তার কাছে কিছুতেই নিজের মত চলতে দেয় না।কত সময় কেটে গেছে কেটে যাচ্ছে তবুও কিছুই ঠিক মত হচ্ছে না।আজও সেদিনের মত তারা ওঠে ফুল ফোটে চাঁদের আলোয় আলোকিত হয় চারপাশ।তবুও কিছুই ঠিক হয় না আমার।পৃথিবীতে মানুষ হিসাবে জন্ম নেওয়ার কষ্ট হচ্ছে আমাদের দুঃখ পেতে হয় যা আমরা পেতে হয়।এই আমি বসে আছি শুন্যতায়।আমি কেমন জানি হয়ে গেছি বদলে গেছে আমার প্রায় কিছু।এই আমি এত বদলে গেলাম কেন? কি তাহার কারন? অথচ এই আমি কখনো বদলে যেতে চাই নি।কিছু কিছু সময় থাকে যখন কিছুই করবার থাকে না শুধু চেয়ে থাকা ছাড়া।আমি চেয়ে থাকি ফ্রেমে বাঁধা কাঁচে জ্বল গড়িয়ে পড়ে যায়।আমার মন খারাপ থাকে যদিও আমি নিজেকে কথা দিয়েছিলাম যে আর কথনো মন খারাপ করবো না অথচ প্রায় আমি মন খারাপ করেই ফেলি ।অথচ মন ভালো থাকবার মত যতেষ্ঠ কারন আমার আছে তবুও মন খারাপ থাকে ।কাঁচ ভেঙ্গে যায় কিন্তু জোড়া দিলে কখনো আর আগের মত হয় না।আমার মনটা একটা ভাঙ্গা কাঁচ সদৃশ ।কেউ একজনের ইচ্ছা হয়েছিল ভেঙ্গে দিয়েছিল।একটা মানুষ কখনোই শুধুমাত্র নিজের ইচ্ছায় তো চলতে পারে না কিছুতেই পারে না।এভাবেই কেটে যাবে সময় আর থেমে যাবে সময়ের শেষে জ্বলে থাকা প্রতিবিম্বের মত জ্বলে থাকা এক বিন্দু আলোক ।এভাবে হয় না কিছুই হয় না সম্ভবত হতেও পারে কারন পৃথিবীতে সব প্রশ্নের উত্তর তো দুইটা।কারো কারো অনুপস্হিতি উপস্হিতি চেয়ে বেশি অনুভূত হয়।কেউ কেউ পারে অনেক কাছে না আসে অনেক অনুভূতি অনেক স্মৃতির জন্ম দেওয়ার।কেউ কেউ আসলে অস্বাভাবিক হ্মমতা নিয়ে জন্মায় অন্যদের প্রভাবিত করবার।আসলে কেউ কেউ আসেই শুধু অন্যদের প্রভাবিত করতে।আসলে এভাবেই কেটে যাবে সময়ের আলো তারপর পৃথিবীটা অন্ধকার সমুদ্রে ডুবে যাবে।

অন্ধ কবি

হঠাত্‍ই নিভে যায় আলোটি আর জ্বলে ওঠে আলোর ছায়া আঁধার কিছুই বুজতে পারি না।সামনে থাকা সবই অদৃশ্য হয়।কেউ একজন বিশেষ অনেক দূরেই দাড়িয়ে রয় ।তার দূরত্ব এতই বেশী যে পরিমাপ করতে পারি না।একটা সময় কবিতা লিখতাম কবিতা লিখে ভরে ফেলেছিলাম ডায়েরীর প্রতিটি পাতা।তারপর একদিন হঠাত্‍ অনুধাবন করি কবিতা লেখাটা এতটা সহজ না যতটা আমি ভাবি।অনেক কঠিন ।তারপর ছেড়ে দিই।আর হারিয়ে ফেলি কাব্যভাষা।পৃথিবীতে মানুষের উদ্দেশ্যটা আসলে কি আমি বারবারই ভাবি ।আমি কল্পনা করতে পারি না আমি বুঝি না।বারবারই হারিয়ে ফেলি নিজেকে ।পৃথিবীটা কি ততটাই সুন্দর যতটা আমি ভাবি।রাত এখন আর উপভোগ করতে পারি না আমি এক অন্ধ কবি অন্ধ কবিদের জন্য সবই উন্মুক্ত ।আমি বহুদূরের আকাশ দেখি না এখন আর ।ব্যালকনিটা ফাঁকাই থাকে প্রতিদিন ।রেডিও জকিরা অফুরন্ত কথা বলতেই থাকে আমার কানে কিছুই আসে না বহু দূরের আকাশে নীল আলোর ঝলকানি অথবা শেষ রাতের ট্রেন যৌবনের গতিতে ছুটে চলা অনন্ত অসীম।আমি হারিয়ে যাব চলে যাব বহুদূরে আর সবাই ও যাবে ।সব কিছুই বদলে যাচ্ছে অনুভূতিহীন রোবটদের মত দিন কেটে যাচ্ছে তবুও মাঝে মাঝে অতৃপ্ত আত্মার মত কার ছায়া যেন কড়া নেড়ে যায়।যে অনন্ত দূরত্ব কোনদিনই শেষ হবে না তা পাড়ি দিতে চেয়েছি।আমার পৃথিবী আস্তে আস্তে ছোট হয়ে যাচ্ছে একটি দিন চলে যাবার অর্থ হচ্ছে যে আরো ১ দিন কমে যাওয়া।আমি মহাপুরুষ হতে চায় কিন্তু জানি পারব না কেউই পারবে না মায়া থেকে দূরে থাকতে পারব না তো ।রোবট হলে ভাল হত পৃথিবীর ভালো বা মন্দ অনুভূতিগুলা স্পর্শ করত না অবশ্য করারও দরকার নেই।কবি হতে চায় নি কোনদিন তবুও কবিতা লিখেছি খেলতে খেলতেই লিখেছি ।আমি কিছুই চাইনি অথচ অনেক কিছুই হবে।রাতের এই হ্মনে যাদের সাথে অনেক সময় কাটাতাম তারা হচ্ছে আমার প্রিয় ব্যালকনি আর রাতের আকাশ অপূর্ন এই অতৃপ্ত মনে খুঁজে ফেরা একটি ছায়া যেন কখনোই ধরে না এই রেটিনায়।অবশ্য অন্ধ কবিদের সব পেতে নেই তাতে করে অন্ধ চরন গুলা আসে না ।

অথবা ভালবাসা অথবা কামনা

চট্টগ্রামে থাকার সুবাদে এখন পর্ষন্ত অনেকগুলা বৌদ্ধ মন্দির ঘোরার সুযোগ হয়েছে ।একটা মন্দিরে একটা লেখা দেখে আমার চোঁখ আটকে যায় লেখাটি ছিল "ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসাই হচ্ছে প্রেম আর মানুষের প্রতি ভালবাসা হচ্ছে কাম " ।কথাটা মাথায় ঢুকে যায় আচ্ছা আসলেই কি তা? আমি বুঝলাম কথাটার দীর্ঘ একটি মিনিং আছে কিন্তু কথাটা কি আদৌ পুরাপুরি সত্য নাকি পুরাটাই ঠিক আমার বোঝার অজ্ঞতা? আচ্ছা ধরে নিই কথাটা সত্য তাহলে দেখা যাক কি হয় তাহলে প্রেম ব্যাপারটা একমাত্র ঈশ্বর শব্দের সাথেই যায় বাকি সব কাম ।আচ্ছা কাম ব্যাপারটা তো শুধুমাত্র বিপরীত লিঙ্গের প্রতিই আসে যদিও কিছু সময় এর বিপরীতটা আমি আমরা দেখতে পায় সেটা আসলেই একপ্রকার অসুস্হতা ধরে নিচ্ছি।কিন্তু ভালবাসা তো শুধুমাত্র বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আসে তা তো না ।ভালোবাসার তো একাধিক মাত্রা পিতামাতার প্রতি ভালবাসা ভাইবোনের প্রতি ভালবাসা বন্ধুর প্রতি ভালবাসা মানুষের প্রতি ভালবাসা।প্রতিটি তার নিজের অবস্হান থেকে ভিন্ন আর আলাদা।প্রতিটি কারো সাথেই যায় না বা মেলে না তাহলে মানুষের প্রতি যে ভালবাসা তা কামনা ক্যামনে হয়? আচ্ছা ভালবাসা বলে পৃথিবীতে কিছু আছে তো? আমার না মনে হয় পৃথিবীতে ভালবাসা বলে কিছু নাই।জানি আমি সঠিক না তবুও।আচ্ছা অবশ্য আজকের দিনে অবশ্য ভালবাসার সংজ্ঞা বদলে গেছে আজকে ভালবাসা বলতে আমি আমরা বুঝি প্রেমিকার প্রতি ভালবাসা প্রেমিকের প্রতি ভালবাসা।আজকের দিনে সবই বদলে গেছে মন্দিরের ঐ কথাটাই সঠিক কাম সবই কাম।কিন্তু জানি অনেকেই বিশ্বাস করবেনা তবুও বলি আমাকে বন্ধুরা প্রায় বলত দোস্ত মেয়েটাকে তুই কেন ভালবাসিস অথবা পছন্দ করিস কি দেখে পছন্দ করলি? তার ফিগার তার মৌখিক সৌন্দর্য ? আমি বলি মৌখিক সৌন্দর্য আমার কাছে দৈহিক সৌন্দর্যটা কখনোই গুরুত্বপূর্ন মনে হয় নি আমি কোনদিনও তার বুকের দিকে তাকাই নি ।দেখতে ইচ্ছে হয় নি কতটা সুন্দর তার ফিগার ?একটা মায়াময়ী মুখের দুটি সমুদ্রসম আঁখির প্রেমে পড়েছিলাম আমি আমার মনে তো কোন কামনা ছিল না ।আর কামনা তো পরের ব্যাপার ।যদি সব হত তাহলে কামনাও হত প্রয়োজনেই হত।ভালবাসা আর কামনা তো এক না।আর প্রেম মানে কি যখন দুই পহ্মের ভালবাসা এক সরলরেখার এক বিন্দুতে মিলিত হয় সেটাই প্রেম।তাহলে ঈশ্বর ছাড়া বাকি প্রেম কিভাবে কাম হয়?হয়তবা এটা খুবই উচ্চ মাচের কথা যেগুলা মাথার উপর দিয়ে যায় অথবা এন্টেনায় ধরে না ।অথবা আমি বুঝি না।তবে অন্তত আমার কাছে ব্যাপারটা তো এমন হয় ।আমি বিশ্বাস করি অন্তত কাউকে তীব্র ভালবাসাটা কামনা হয় না হতে পারে না ।আমি ঠিক তো আমার পৃথিবী ঠিক বাকিরা ঠিক তো বাকিদের পৃথিবী ঠিক।অথবা মন্দিরের কথাটা ঠিক এক প্রেহ্মাপট দিয়ে যা আমি অবগত নই।হতে পারে সবই হতে পারে এই জগত সংসারে কিছুই অসম্ভব নয়।

সার্চ লাইটের আলোয়

পৃথিবীতে কিছু কিছু আধাঁর থাকে যা আলো কোনদিনই দূর করতে পারে না।আলোর এই এক বড় ব্যার্থতা মনে হয় আলো দেয়াতে ঐ আধাঁর আরো বহুগুনে বেড়ে যায়।মানুষের জীবনে অসংখ্য বার এই অধ্যায় আসে।না চাইতে আসে ।সামনে থাকা মানুষ হঠাত্‍ ই হারিয়ে যায়।একজন মানুষের হারিয়ে যাওয়া শুধুমাত্র তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার নয়।মানুষের জীবনটা একটা ইনফিনিটিভূজ অসংখ্য বিন্দুর সমন্বয়ে গঠিত।কোন না কোন দিক দিয়ে সবাই ইন্টার লিংকড।একজন আমারো হারিয়ে গেছে সেই শুন্য আঁধারে অসংখ্য বারের বেশি কেঁদেছি আর বলেছি ।এত বড় আঁধারের মাঝে আমি কোথায় পাব আমি খুঁজতে থাকব সার্চ লাইটের আলোয় জানি কোনদিন দুইটি রেখা একবিন্দুতে মিলিত হবে না।সমান্তরাল রেখা কখনো তা করেনা।

My Favourates

নৈঃশব্দবতী ০১

আমার   প্রায়ই   সেই   রাতটার   কথা   মনে   পড়ে ,  সেই   দীর্ঘ   রাতটার   কথা ,  প্রতিটি   শীতের   রাতের   যোগফলের   থেকেও   দীর্ঘ   সেই   ...