শক্তি ক্রমশই ফুরিয়ে আসছে, কমে যাচ্ছে সূর্যের আলো,বাতাসে বাড়ছে কার্বনের আধিক্য। জ্বালানি তেলে পুড়ে যাচ্ছে নগর। ভাঙ্গা ইটের কাঠানোয় দাঁড়িয়ে থাকা ভবন গুলো স্থায়িত্ব হারাচ্ছেই।চাঁদ উঠেছে ঐ দিকের আকাশে, নিভে গেছে তারাদের আলো আলো জ্বলা হেডলাইটের জ্বীপ ভর্তি স্বসস্ত্র সৈনিক, লাল আগুনের ধোয়া উড়ে যাচ্ছে সামনেই।আকাশে গোলা বারুদ, যুদ্ধ বিমান পাবলিক এয়ারপোর্টে। সাইরেন বাজিয়ে যাচ্ছে নগর পুলিশ। ও ধারেই ওদের ক্যাম্প, আর্তচিৎকার আর বেয়ানেট এর আঘাতে রক্তে জমে যাচ্ছে ব্যারাকে ব্যারাকে, রেডিও তরঙ্গে নেতার জ্বালাময়ী ভাষনে কেঁপে উঠছে সাউন্ড বক্স,বাতাসে রক্তের গন্ধ, শকুনে খুড়ে খাচ্ছে মাংশ, রাস্তা ফাঁকা, নগর ফাঁকা ,ফাঁকা শোবার ঘর, শব্দ নেই আলো হাতড়ে যাচ্ছে ভীতু চোখ গুলা সামনেই চেকপোস্ট ,তারপর আবারো চেকপোস্ট, আস্ত্রধারী মিলিটারীরা, হেরে যাচ্ছে অদম্যতা,সাহস আর দুইটা চোখ। বুকে হাত মাইকে গান উপরে পতাকা দূর দৃষ্টিতে জ্বীপ, এগিয়ে যাচ্ছে সময় কমে আসছে খাবার,আকাশ ছোয়া দামের বাজারে নামানো শাটার। রণসঙ্গীতে কাপছে বুক, না ঘুমানো চোখে শহীদের রক্ত। অস্ত্র নেই ট্রেনিং নেই খাবার নেই আশ্রয় নেই পিঠে বয়ে চলা সঙ্গীর লাশ। বুকে সাহস আর অন্তরে দেশপ্রেম। মারা যাচ্ছে মানুষ। জননীর প্রতি অত্যাচারে বেড়ে যাচ্ছে ঘৃণার মাত্রা, সামনেই লাল আর সবুজ আর তারো সামনে শহীদের কাফন, শহীদের রক্তের কসম দেশ এবার স্বাধীন করবোই, আর আমরা করেছি।
বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৬
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
একাকী দীর্ঘ রাতের
হয়তবা এভাবেও জীবন কেটে যায় সেভাবে কেউ চায় না । ।
সেই টিপিক্যাল পড়ালেখা রাত জাগা ছবি আকা আর চা খাওয়া । ভোরবেলা এটেনডেন্সের আশায় ক্লাস করা ।
মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করলে অদ্ভুদ কিছু দেখা যায় ।
পানসে জীবন স্বাদে গ্রামিন শব্দ বড় অস্বস্তি হয় । ।
কালো ধোয়ার ভীড়ে হারিয়ে যাওয়া অনওয়ে রাস্তার স্পীড লিমিটের সাইন গুলা আমার খুব মনে পড়ে ।
অন্ধকার ব্যালকনির আবছা আলোতে শুন্যতার মাঝেই পূর্নতা খুজে ফেরে মাতাল হওয়া ঘরের রাস্তা ভুলে চলে আসা সেই পরিবারের অবাধ্য ছেলেগুলি । ।
আমার খুব পিপাসা লাগে মনে হয় সমুদ্রসম জ্বল দিয়েও মিটবে না পিপাসা ঘুমিয়ে পড়া সরু রাস্তায় কুকুরের রাজত্ব চলে। । ।
ঘুম চোখে নিষ্পাপ মানুষ গুলি কিছুতেই উঠতে চায় না । ।
একাকী দীর্ঘ রাতের প্রতিটি সেকেন্ড হিসাব রাখে নিচু ক্লাসের প্রথম ছেলেটা । ।
চশমাটা হারিয়ে পাপী দুনিয়ার পাপ গুলা দেখতে পায় না সে ক্রমাগত ডাকে কেউ শোনেনা জোনাকির আলোই সদ্য ঘুম ভাঙ্গা সে অপরাধে সমুদ্র সম পিপাসা নিয়ে ছেলেটা আলো নিভিয়ে দেয়
শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০১৫
বীরাঙ্গনা দুহিতা
মেয়েটা লড়াই করতো, ঢাল তলোয়ার নয় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে সম্মুখ থেকে লড়ে যেত সে। বারবার ভেঙ্গে যেত, আবার উঠে পড়তো, আবার লড়ে যেত সে। বার বার হারতে হারতে লড়াই করে বেচে ছিল ও, চোখের জ্বলে ভিজে যেত চোয়াল, শক্ত চোখে নরম হাতে নিজেকে কষ্ট দিতে পারতো ও, লড়তো কোন শত্রুর বিপক্ষে নয়, নিজের বিরুদ্ধে আর নিজের ভালবাসার বিরুদ্ধে, অসংখ্য কষ্টের আঘাতে জ্বলে ক্ষত বিক্ষত হয়েছে হৃদয়, অসংখ্য ঘুমন্ত রাতের নিরঘুম সাক্ষী ও, হাপিয়ে উঠেছিল প্রকৃতি, চলছিল তার অদৃশ্য যুদ্ধ, হারিয়ে গিয়েছিল শত্রু নয় বন্ধু, যাকে ও ভালবেসেছিল, তবুও টিকে ছিল ও, বার বার পড়তে পড়তে রক্ত জমেছে ওর শরীরের প্রতিটি কোষে, নরম মনে পড়েছে সহস্র ছুরির আঘাত, রক্ত নয় চোখের জ্বলে বন্যা হয়েছে তার চারধার জুড়ে, তবুও হেরে যায় নি সে, কখনো হারবেও না, হেরে যাবে বার বার বিশ্বাসঘাতক বন্ধু যার হাতে ছুরি ছিল না ছিল না ধারালো বর্শা, তবুও প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত করেছে ওকে, সব রক্ত শুকিয়ে গিয়েছে আলো ওঠার আগেই, খোলা আকাশ ভিজেছে জমাট বাধা রক্তে, লড়াই থেমে যায় নি, লড়াই থামে না, হেরে যায় ভীতুরা, ভাল থেকো আশকা।
সোমবার, ২২ জুন, ২০১৫
অন্ধ পথপ্রদর্শক
একটা দৃশ্য আমার চোখের সামনে খুব ভাসে তা হচ্ছে সম্পূর্ণ অন্ধ একজন মানুষ অসংখ্য প্রখর দৃষ্টি শক্তি সম্পন্ন মানুষ দের পথ দেখিয়ে বহুদূর নিয়ে যাচ্ছে। মানুষটা চোখ দিয়ে পৃথিবীর আলো দেখে না, পথ কি রকম তাও সে জানে না তবুও কিভাবে যেন সে সবাইকে বহুদূর নিয়ে যাচ্ছে। পেছনের অসংখ্য মানুষগুলার চোখে ভয়, অজানা দূরত্ব আর বহুদূরে যাবার তীব্র প্রয়োজন। নিভে গেছে সব আলো, থেমে গেছে দূর পৃথিবীর কোলাহল, অন্ধকার পথ এতটুকু চাঁদের আলো। হাতে কোন লাঠি নেই চোখে কোন আলো নেই, সামনে কোন শব্দ নেই, শব্দহীন যান্ত্রিক নগরের ব্যাস্ত মানুষগুলাও নেই। আলোহীন শব্দহীন এই পৃথিবীর পথ দেখাচ্ছে অন্ধ এক মানুষ। চোখ গুলা নির্ঘুম, চিন্তাগুলা আটকে গেছে বন্ধ হয়ে গেছে বেচে থাকার রাস্তাগুলা। দূর পৃথিবী দাড়িয়ে আছে বিশাল এক মানব লাইনের অপেক্ষায়। মেঘ নেই আকাশে, আছে অনুকরণ করার অসংখ্য মানুষ। হেটে চলেছে, বিরতি নেই বিশ্রাম নেই, নেই মানবিক প্রয়োজন, চলে যাচ্ছে পৃথিবী দূরে আপন অক্ষে ঘুরে, মানুষ গুলা এগিয়ে যাচ্ছে ধীরে। দূর পৃথিবীর আলোটা ক্রমশ দূরে যাচ্ছে। অন্ধ ব্যাক্তি পথ দেখিয়ে চলেছে।
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫
মেট্রোপলিটন লাভ
অসংখ্য রাস্তার একটা দীর্ঘ লম্বা রাস্তা, মাঝখান বরাবর ডিভাইডার তার উপর গাছ, মাঝে মাঝে নিয়ন হলুদ আলো, দুধার দিয়ে বয়ে চলা ফুটপাথ, তারপর মানুষ, তারপর আলো আর তারও পরে উচ্চতা, থেমে থাকা যান, সন্ধ্যাবেলায় একসাথে জ্বলে ওঠা হেড লাইটের আলো, আর লাল সিগনালে থেমে থাকা হর্নের শব্দ ,জনস্রোতের সমুদ্র, তারপরই হঠাতই জেগে যাওয়া, ধোয়া ওঠা কার্বনের চারপাশ, আর ইঞ্জিন চালু হওয়া, ব্যালকনির ধার দিয়ে চোখ যাওয়া দূরের রাস্তা, ফুটপাথে দোকানীর পরসা, হকারের হাকডাক আর ট্রাফিকের বাশির শব্দ, হাতে সুটকেস অন্তরে তাড়া, হাতের ঘড়ি দুরন্ত ছুটে চলা, ভীড় ঠেলে বাসে চাপা, আর রাস্তার পাশে থেমে থাকা বাস গুলার সামনের সংরক্ষিত আসন, হঠাতই থেমে যাওয়া মানুষের ওঠা নামা, চায়ের ধোয়া, ধোয়াটে চারদিক হারিয়ে যাওয়া নতুন আসা, রিকশার পিছনে নায়িকার আকুতি, সিনেমা হলে নায়কের মারামারি, ক্লাব থিয়েটারে রংমঞ্চ, দূরত্ব, পথে দূরপাল্লার যাত্রার ক্রমাগত ডেকে চলা, উচু ছাদের নিচু তলা, নিচু ছাদের উচু তলা, দূরে তাকিয়ে আকাশ দেখা, পার্ক রেস্টুরেন্ট এ প্রেমের বাজার জমে ওঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্তরে আড্ডা মারা, অন্ধকারে ডুবে যাওয়া নগরে একবিন্দু আলো খোজা, হাতড়ে ফিরে চেয়ে চলে বিপথগামী রা, কখনো হাতে ছুরি, মুখে গালি আটকে ধরা রাজপথ, মানুষের এগুনো, ব্যাবসায় ঠকানো, দূরে দাড়িয়ে দুই হাতে গোনা টাকা, মার্কেট মলে বিষন্নতা, রমনীদের ক্রমাগত কেনাকাটা, গাড়ির কালো ধোয়া, নোংড়া রাজপথ, পাশে দাড়িয়ে আগুন জ্বালানো, পার্কিং ফাকা রাস্তা ভরা, পুলিশের পথচলা, পাব্লিকের গালাগালি, টাকার খেলা, আর বারে বারে তোলা বুথ থেকে টাকা, হারিয়ে যাওয়া চেনা রাস্তায়, খুজে পাওয়া অচেনা রাস্তা।
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৫
ডেড এন্ড
ডেড এন্ড কথাটা মূলত বলা হয়ে থাকে স্ট্রিট বা রাস্তার ক্ষেত্রে যেখানে রাস্তা হঠাতই শেষ হয়ে যায়। (যদিও আমার দীর্ঘ বিশ্বাস রাস্তা কোনদিনই শেষ হয় না শুধু তৈরি বা মারকিং শেষ হয়) যাই হোক রাস্তা থেকে নামের কন্সেপ্ট টা আসছে।।।
টুক টাক লেখালেখি যারা করেন বা মিউজিক করেন বা গান লেখেন বা নতুন কিছু করেন একটা সময় গিয়ে দেখা যায় মাথা পুরাপুরি শুন্য হয়ে যায় শুন্য মাথায় একটা ওয়ার্ড ও আসে না বা লেখা যায় না কলম সরে যায় কালি আছে তবুও লেখা হয় না তৈরি হয় না কোন নতুন মিউজিক।।
ইংরেজি তে এটাকে "ব্ল্যাক আউট " বলে মে বি।।
বড় বড় লেখক রা এই সময় টাতে দিশেহারা হয়ে যায়।।
নিজের প্রতি ভরসা কমে যায়।।
লেখালেখির নেশাটা গা চড়া দিয়ে ওঠে শুন্য মস্তিষ্ক কিছুতেই নতুন লেখার জন্ম দিতে পারে না শব্দ গুলা দূরে কোথাও ভেসে বেড়ায় ধরা ছোয়ার বাইরে অথচ এমন টা হওয়ার কথা কিছুতেই ছিল না আমার খাতা ডায়েরীর পাতাতে লেখা ছিল আমার নেশা ইদানীং লেখালেখির অভ্যাসটাও হারিয়ে যাচ্ছে কলম দিয়ে লেখা বের হয় না কি বোর্ড টাইপিং হয়ই না।।
মাথার ভেতরে কথা গুলা ঘুরে বেড়ায় অথচ ধরতেই পারি না আমি কথা গুলা হারিয়ে বেড়ায়।।
সুন্দর কথা আর আসে না সাহিত্যের আস্বাদন থেকেও দূরে অনেক।।
কিছুতেই লিখতে না পারা কথা গুলা ব্যাথা দেয় মাথায় অন্ধ ব্যাক্তির হাতড়ে ফিরি একটা ফাকা শুন্য স্থান এ হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয় আমার।।।।
আমি সংকিত অবাকিত আর হারানো।।
কথা গুলা ধরা দিক এই ছোট্ট ঘরে এই অন্ধকারে আমি আবার আগের মত হতে চায় ডায়েরীর প্রতিটি পাতা লিখতে চায় ভারচুয়াল দুনিয়ায় লিখতে চায় অন্ধকারে আলোর সিঁড়িটা আমার খুব দরকার।।।
ভালবাসার শুরু যেখানে
পরিচয় টা হয়েছিল একদম শুরুর দিকে , একদম ছোট বেলায়,সেই হাফ প্যান্ট পরে স্কুলে যাওয়ার ও আগে, বুঝতে শেখার কিছু পরেই। সেই স্কেক্রেড হার্ট স্কুলে পড়ার দিনগুলাতে। আর প্রথম দেখা হয়েছিল জন্মের পর পরই।
১৯৯৭ শালে যখন স্কুল লাইফের শুরু তখন আব্বুর একটা সিডিআই বাইক ছিল। প্রত্যেক দিন আব্বু বাইকে করে স্কুলে দিয়ে আসত আবার নিয়ে আসত। ট্যাঙ্ক এর উপর বসে পড়ে যেতে পারি এই ভয়ে আব্বু দুই লুকিং গ্লাসের রড কানেক্ট করে আর একটা এক্সট্রা রড লাগিয়ে দিয়েছিল ওটা ধরে আমি বসে থাকতাম আর আব্বু চালতো।এভাবেই শুরুটা হয়েছিল বাইক কে ওই বয়সে এতটাই ভাল লেগেছিল যে যদি কোন কারনে আব্বু একদিন ব্যাস্ত থকতো আর আমার রিকশা করে স্কুলে যাওয়া লাগতো আমি যাইতে চাইতাম না বাইনা ধরতাম বাইকেই যাব। মায়ের কাছে কত বকুনি শুনেছে এই জন্য বাবা বকত না কাজ টা দ্রুত শেষ করে বাইকে করে ঠিকই বাসায় নিয়ে আসত আমাকে। দেখতে দেখতে সামনে বসার দিন গুলা শেষ হয়ে গিয়েছিল সামনের থেকে আমার সিট হল পিছনে আব্বুর মাজা ধরে শক্ত করে পিছনে বসে থাকতাম। আর সামনের সিট টা তত দিনে দখল করে নি আমার ছোট বোন। তারপর জিলা স্কুল শুরু হল তখন ও বাবার সাথে বাইকে করে যাই আর মাঝে মাঝে রিকশা কিন্তু বাইনা করার লেভেল টা তখন কমে গিয়েছিল।২০০৪ এ ক্লাস সিক্স এ থাকতে বাবা সুযুকি সামুরাই নামে সবুজ রং এর আরেক টা বাইক কিনলো। তখন থেকেই বাইকের পিছনের সীট থেকে সামনের সীটে বসার একটা লোভ হতে থাকলো।। বাসায় যখন বাইক টা পার্ক করা থাকত ডাবল স্ট্যান্ডে তখন সুযোগ পেলেই চালানোর অভিনয় করতাম মুখ দিয়ে হর্ন দিতাম। মাঝে মাঝে চাবি টা চুরি করে এনে শুধু হর্ন বাজাতাম। তারপর লেভেল টা আরেকটু বাড়ালাম বাইক টা যখন আমাদের বাসার সামনেই উঠানে থাকত স্ট্যান্ড তুলে ঠেলে ঠেলে চালাতে ট্রাই করতাম অনেক ভারি লাগত বাইক টা। তবুও চেষ্টা করতাম। আমার এত আগ্রহ দেখে আব্বু একদিন নিজে থেকেই আমাকে বাইক চালনো শেখাবার উদ্দোগ নিল সামনে বসিয়ে গিয়ার কি, ক্লাচ কি, এক্সেলেটর কি , ব্রেক কি , চোক কি সব ধীরে ধীরে চিনিয়ে দিল বাসার মাঠে আব্বু কি বসিয়ে চালাতে চেষ্টা করতাম। এভাবেই ২০০৫ এর একদম শুরুতেই মোটামুটি ভালই চালানো শিখে গেলাম আমি। সেই সুযুকি সামুরাই এর একটা নেট থেকে নামানো ছবি যেটাতে করে শিখেছিলাম। বেশীর ভাগ সময়ই চালানোর অনুমতি পেতাম না তাই তখন ঠেলে চালানোর অভ্যাস টা থেকে গিয়েছিল। কিছুদিন পর বাইক টা আমাদের বাসা থেকে চুরি হয়ে যায় । অনেক কষ্ট পেয়েছিল আব্বু তার থেকেও বেশী পেয়েছিলাম আমি। অনেক খোজাখুজি করেও কোন লাভ হল না আব্বু তাই সেম জিনিস সেম কালারের আরেক পিস কিনলো। স্কুলের শেষ দিন গুলাতে আমি আর সেবা সুযোগ পাইলেই বাইকটা নিয়ে বেরিয়ে যেতাম। আর উৎসব এর ও একটা সি ডি ছিল ওকে কোন দিনই ধরতে পারতাম না শুধু ধোয়া দেখতাম সামনে। দুঃখজনক ভাবেই এই বাইকটা আবারো চুরি হয়ে যায়। এবার খোজাখুজির পর কিছুটা খোজ পাওয়া যায় অনেক ঝামেলা করে উদ্ধার হয় কিন্তু কন্ডিশন খুব খারাপ হয়ে যায়। তবুও চালাতাম। কত বার ঠেলে ঠেলে স্টার্ট দেওয়া লাগছে :P
তারপর ঈদ আসলেই হইছে বাইকটা নিয়ে সারা যশোর টাউন ঘুরে বেড়াতাম।।
বাবা বলেছিল এস এস সি তে গোল্ডেন পেলে বাইক কিনে দিবে আমাকে আমি পেয়েছিলাম আর বাবা কথা রেখেছিল যদিও একটু দেরী হয়েছিল তবুও আমাকে একটা লাল পালসার ১৩৫ এল এস কিনে দিয়েছিল সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে কি যে মজা লাগত কলেজে যেতে ফার্স্ট ইয়ারে থাকতে দেখতাম কিছু সিনিয়র বাইক নিয়ে আসতো কলেজে আর সেকেন্ড ইয়ারে আর দেখে কে লাল বাইক লাল হেলমেট পুরাই পাংখা লাগত আমার নিজের কাছে। তারপর বিকালে আব্র কোচিং এ যাওয়া। নিচে বাইক রেখে ভীতরে থেকে বরাবরই টেনশন হত আমার। সারদিন খালি ঘুরে বেড়াতাম প্রত্যেকদিন বাইপাস ক্যান্ট এর মেইন এন্ট্রেন্স যার যেখানে দরকার ছিল ছুটতাম খালি। এভাবেই ছোট থেকে দেখতে দেখতে কখন যে ওর প্রেমে পড়ে গেছি জানি না, বাইক মানেই ভালবাসার বস্তু বাইক মানেই ফিল।
২০১২ তে চুয়েট ভর্তি হবার পর মনে হল আর ১৩৫ না এবার ১৫০ এর পালা লাল পালসার ১৩৫ বিক্রি করে দিয়ে কিনে ফেললাম কালো পালসার ১৫০ যেটা আজ অব্ধি আছে। আমি এখন চট্টগ্রামে থাকি আর বাইক টা থাকে যশোরে। অনেক বুঝাইলাম বাবাকে বাবা আমার আর বাইকের প্রেম টা বুঝলোই নাহ :( তার এক কথা এত দূরের শহরে বাইক দিব না, দিন গুলা এখানে বিরহে কাটে আমার , একাকিত্ব ফিল করি আমি , কালো পালসার সামনে দিয়ে গেলে বুকের ভেতর কেমন যেন করে ওঠে। অন্যরা যখন ফিল করে ক্যাম্পাসে তাদের একটা গার্লফ্রেন্ড থাকা দরকার তখন আমি ভাবি ক্যাম্পাসে আমার বাইক টা থাকলে কত্ত না রোমান্সিং হত :)
শুক্রবার, ৪ জুলাই, ২০১৪
ব্রেক আপ
আশকার সাথে আমার ব্রেক আপটা খুব সাদা মাটা ভাবেই হয়ে যায়। আর আট দশটা প্রেমের মত খুব ঘটা করে রিলেশন ব্রেক হয় নি আমাদের খুব ঝগড়া-ঝাটির পর পুনরায় মিলে যাওয়ার চেষ্টাই বিফল হয়ে যে ব্রেকটা হয়েছে তাও না খুব সাধারন কয়েক লাইনের একটা এস এম এস দিয়েই আমাদের শেষ টা হয়।কোন এক তপ্ত রোদেলা দুপুরে আমি তাকে ফার্মগেট থেকে মনিপুরিপাড়া পৌছে দিই আর ঐটাই ছিল আমদের এখন পর্যন্ত শেষ দেখা।তারপর আজ অবধি কেটে গেছে ৬ টি মাস।একটি বাক্যও বিনিময় হয় নি আমদের হয় নি একটি এস এম এস ও চালাচালি।
আশকার সাথে ব্রেকটা যেমন আমার খুব সাধারন ভাবেই হয়েছে তেমনি রিলেশন টাও খুব অদ্ভুদ ভাবেই হয়ে ছিল।ওর সাথে আমার রিলেশান হওয়ার কোন কথাই ছিল না কেননা প্রথমত আমরা সমবয়সি ছিলাম না আমরা একই এলাকায় থাকতাম না । এমনকি আমরা একই স্কুলেও পড়তাম না। তবুও রিলেশান টা হয়ে গিয়েছিল কিভাবে যেন। কোন এক ঈদের পরের দিন বাইকে ঘুরছিলাম আমরা আর তখন বাইপাসে আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যায় তার অনেক দিনের পুরানো এক বান্ধবীর সাথে আর সে মেয়ের ছোটবোন ছিল আশকা ।আর আশকা আসার আগের কাহিনীটাও ছিল খানিক টা মজার খানিকটা দুঃখের । আমি যশোরে যাদের সাথে চলাফেরা করতাম তাদের বেশির ভাগেরই বালিকা বান্ধবী তথা গার্লফ্রেন্ড ছিল দেখা যেত কখনো এমন হত যে ওরা সবাই ফোনে কথা বলত আর আমি একা একা মোবাইল চাপতাম আর আমার এই অবস্থাটা হয়ত আমার বন্ধুদের কষ্ট দিত আর তাই ওরা চাইত যে আমার ও একটা প্রেম হয়ে যাক আমি ওদের মত ফোনে কথা বলি আর সেই থেকে ওরা আমার জন্য খুজতে থাকে একজন বালিকা ফেসবুক থেকে শুরু করে যে যেমনে পারসে আমার জন্য প্রচারনা করেছে আর সেই থেকে ফ্রেন্ড এর বান্ধবীর ছোট বোনের সাথে রিলেশন হয়ে যায় আমার কোন এক মধ্য রাতে মাত্র দুই দিনের কথা বলাতে জানি না এত তাড়াতাড়ি কিভাবে হয়ে গিয়েছিল ।
দশ মাসের রিলেশনে ও আমাকে দিয়েছে অনেক কিছুরই প্রথম অভিজ্ঞতা প্রথম চুম্বন প্রথম কাছে আসা প্রথম একসাথে হাত ধরা প্রথম একসাথে ঘুরতে যাওয়া প্রথম এক রিকশাতে দুই জন ঘোরা প্রথম স্পর্শ ওর কাছ থেকেই পায়। সত্য বলতে আমার প্রথম প্রেম ও কিন্তু প্রথম ভালবাসা না। জানি না আমি ওর প্রথম ছিলাম কিনা কিন্তু ও ছিল আমার প্রথম প্রেম।
দশটা মাস আমরা কিভাবে পার করেছি আমার ঠিক বোধগম্য হয় না । মাসের সংখ্যা টা দশ হলেও আমার কাছে ওটাকে ঠিক অনন্তকালই অনুভূত হয়। শুরুটা মোটেও খারাপ ছিল না আর আট দশটা প্রেমের মত খুব রঙ্গিন প্রেম ছিল আমাদের প্রেম অবশ্য সেটা খুব অল্প দিনের জন্যই টিকে ছিল।সত্য বলতে আমরা যেটা করেছি সেটা প্রেম ছিল কিনা আমার ঠিক অবিশ্বাস হয়। প্রথম কয়েকটা মাস বেশ ভালই ছিল তারপর যে কোন কারনেই ওটা খুব দুর্বল হতে থাকে। রঙ্গিন সপ্ন দেখা গুলা থেমে যেতে থাকে ওর পক্ষ থেকে হয়তবা আমারই কারনে । আমার ঠিক মনে পড়ে না । আমি চট্টগ্রামে বেশ ব্যাস্ত জীবন কাটাতে থাকি আর ক্রমশ ই দুর্বল হতে থাকে প্রেম। তত দিনে ও অবশ্য বেশ এডিক্টেড হয়ে পড়ে আমার প্রতি আমার সাথে একটু রাগারাগি হলেও হাত কাটা ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়া ইত্যাদি করে ফেলত ও। আমার ঠিক ভয় হত।আমি খুব অসহায় লাগত। নিজেকে অনেক ক্ষুদ্র লাগত। মনে হত জীবন টা একেবারেই থেমে গেছে এর আর কিছুই হবার নেই। মনে হত বেশি দিন বাচব না । আমি মনে প্রানে চাইতাম ওর কাছ থেকে বেরিয়ে যেতে খুব চাইতাম।সে জন্য যোগাযোগ কমিয়ে দিতে থাকতাম । রোমান্স ছিল না দায়িত্ব বা কর্তব্য থেকে তিন চার দিন বাদে একদিন ফোন দিতাম।বুঝতাম ও অনেক রেগে বা দুঃখে আছে কিন্তু সত্য বলতে আমার পক্ষ থেকেও কিছুই করার ছিল না আমি ঠিক নিরুপায় ছিলাম।এর মাঝে ও একদিন রাতে হঠাত ফোন করে বলে যে তার বাসা থেকে নাকি বিয়ে ঠিক করছে তাই সে পালায়ে ফ্রেন্ডের বাস্য আসছে আর আমাকে তক্ষুনি তাকে বিয়ে করতে যেটা আমার পক্ষে পুরা মাত্রাই অসম্ভব ছিল আমি বাবা মায়ের এক মাত্র ছেলে অনেক প্রত্যাশা তাদের আমাকে ঘিরে আমি এমন কাজ করতে পারি না যেটা তাদের কষ্ট দেয়।তাই আমি বুঝিয়ে শুনিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এভাবেই চলে যাচ্ছিল।এর মধ্য রমজান মাস এসে যায় ২০১৩ সালের। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয় আমি ঢাকা যায় ,ওর সাথে একবার দেখা করার জন্য ওকে আসতে বলি ও রাজি হয় আমরা ফার্মগেটে দেখা করি। আমার সাথে আমার এক কাজিন ও ছিল । তাকে বসিয়ে রেখে আমি ওকে মনিপুরি পাড়ায় ওর বাসা পর্যন্ত আগায় দিয়ে আসি আর পরের দিন আবার দেখা করার কথা বলে চলে আসি।রাত অবধি আড্ডা দিয়ে বাসায় এসে একটা মেসেজ পায় আশকার । তাতে লেখা ছিল তুমি আমাকে আর ফোন দিবা না আমি তোমার সাথে আর রিলেশান রাখতে পারব না। আমি তার কোন রিপ্লাই বা ফোন দিই নাই… দিন টা ছিল ২১-০৭-২০১৩ । তারপর আজ ১৮-০১-২০১৪ আজ অব্ধি আমি তাকে আর ফোন দিই নি এর মাঝে সে আমাকে অনেক বার ফোন মেসেজ দিয়েছে আমি কোন রিপ্লাই বা আন্সার করি নাই। একসময় বাধ্য হয়ে তার নাম্বার আমি ব্লাক লিস্টে ফেলে রাখি তখন সে নিত্য নতুন নাম্বার দিয়ে আমাকে ফোন দিতে লাগল আর আননোন নাম্বার আমি রিসিভ করা পুরাপুরি বন্ধ করে দিলাম। সব শেষ সে আমাকে থার্টি ফার্স্ট নাইটে অনেক দুঃখ ভরা মেসেজ দেয় যেটা দেখে সত্যিই আমার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হয়েছিল যে আমি কি ভুল করলাম ওকে ছেড়ে দিয়ে । তারপর রাগে দুইটি ফোন থেকে দুইটা সীম জিপি আর এয়ারটেল নিয়ে ভেঙ্গে ফেললাম একবারে।তারপর এই আছি। এই ঘটনার কয়েক দিন বাদে আমার অনেক পুরানো আমলের এক স্কুল ফ্রেন্ডের সাথে দেখা সে আমাকে আশকার কথা জিজ্ঞাস করে আমি তাকে বলি সব। তারপর তার সাথে কথা বলে আমি যা বুঝলাম সে হচ্ছে আশকার নতুন বয় ফ্রেন্ড। আমি তাকে কংগ্রেটস করলাম মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম। আমি সত্যিই অনেক খুশি হয়েছিলাম। আমি চাই আশকা অন্য কাউকে নিয়ে অনেক সুখি হোক , আমি হয়তবা ঠিক তার যোগ্য ছিলামা না । বা ঈশ্বর ও হয়তবা এতা চাইতেন না আমার মনে হয়।
অনেক দিন বাদে সত্যিই অনেক ভাল লেগে ছিল সেদিন ।ওদের প্রেম ভালবাসা অনেক রঙ্গিন আর সুন্দর হোক এই কামনায় আমি করছি। শুভ প্রেম হোক ওদের। । । ।
চট্টগ্রামে থাকি
চট্টগ্রামে থাকার গল্পটা(আসলে এটাকে ঠিক গল্প বলা যায় না তবুও ভাল লাগে গল্প শব্দটা শুনতে তাই এখানে গল্প শব্দটাই ব্যাবহার করছি) কিভাবে যেন হঠাৎ করেই শুরু হয়ে গিয়েছিল কোন এক বছরে একুশে ফেব্রুয়ারী সারা দিন বাস ভ্রমন করে যশোর থেকে চট্টগ্রামে এসে ভর্তি হয়ে গেলাম দুঃখিত চুয়েটে এসে ভর্তি হয়ে গেলাম তার পর থেকে গল্পটা শুরু হয়ে গেল একদম নবীন এক শিশুর গল্প যে নতুন করে বেড়ে উঠতে থাকলো চট্টগ্রামে, চট্টগ্রামের আলোতে চট্টগ্রামের বাতাসে ।
আর সবার মত সপ্ন আমিও দেখতাম ঢাকায় থাকবো , জীবনের ২০টা বছর কাটিয়ে দিয়েছিলাম ছোট্ট এক মফস্বল শহরে যে শহরের প্রতিটি রাস্তা প্রতিটি গলি প্রতিটি বাড়ি আমার কাছে যাদুর মনে হত আমি অবাক হয়ে যেতাম ভাবতাম এত মায়া কেন এই শহরের এত ভালবাসা !!!! তবুও জীবনের বৃহৎ স্বার্থে আমাকে তাকে ছাড়তে চেয়েছিলাম ভেবেছিলাম ঢাকার কোন এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাব আমার বাবা মা তাই চাইত। চট্টগ্রামে থাকব এমন কোন পরিকল্পনা আমার কখনো আসে নি চট্টগ্রামে থাকার গল্পটা তবুও হয়ে গিয়েছিল।অন্য সবার মত আমি চট্টগ্রামে থেকে গেলাম।
চট্টগ্রামে থাকাটা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে হঠাৎ করেই আমার কাছে মনে হয় আমি যশোরে একদিন ঘুম দিলাম আর ঘুম ভেঙ্গে দেখি আমি চট্টগ্রামে এক টা বিশাল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আর অসংখ্য অপরিচিত মুখ আমি অবাক হয়ে ভাবতাম এত মানুষ কেন!!!! আমার পাশে শুধু একজন পরিচিত মানুষ ছিল সৌরভ ভাই আমাকে যে চট্টগ্রামে পৌছে দিতে এসেছিল। শক্ত করে আমার হাত টা ধরে পৌছে দিয়েছিল অডিটোরিয়ামে আমি হতবাক পথ ভোলা এক শিশুর মত ঢুকে পড়লাম অডিতে যে শিশুটি জানতও না কোথায় গিয়ে বসতে হবে কার কাছ থেকে শুনতে হবে কোথায় তার ডিপার্টমেন্ট।।তবুও সে বসে গিয়েছিল শেষের দিকে একটা চেয়ারে যেখানে তার ফোনে পরিচয় হওয়া দুই ডিপার্টমেন্ট এর বন্ধুর সাথে...
তারপর তাদের সাথে ছেলেটা বারতলা বিল্ডিং এ পৌঁছে গেল কখন ঠিক তার মনে হয় না।। অরিয়েন্টেশন হয়ে গেল ছেলেটা দেখে নিল একটা বিশাল রুম ৩০ টা চেয়ার অসংখ্য টেবিল আর কয়েকশ টিউব লাইট ঝোলানে ছেলেটা অবাক হয়ে ভাবলো একটা রুমে এতগুলা টিউব লাইটের কি দরকার!!!!
কিছুক্ষন পর ছেলেটা পানি খওয়ার জন্য বের হল আর দরজার কাছে দুই জন তাকে আটকালো অস্মভব ঝাড়ি দিল নবীন ওই শিশুটি এক বারের জন্য বুঝতেও পারলো না কি তার ভুল ছিল বা কি সে করেছিল তবুও তার চট্টগ্রামে থাকার গল্পটা কিছুতেই থেমে গেল না ঠিক শুরু হতে লাগল।।
সারা দিনটা কেটে গেল হলের ছিট পাওয়ার জন্য জন্য হল প্রোভোস্ট দের কাছে নিজেকে প্রমান করতে হল হ্যা আমি অনেক দূর থেকে এসেছি আমার চট্টগ্রামে কেউ নেই তবুও স্যার দের ঠিক বোঝানো গেল না অন্য অনেক গুলা অপরিচিত ছেলের মত আমিও একটা রুম পেয়ে গেলাম যেটাতে ৬ জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে ১২ জন কে থাকতে দেওয়া হল তবুও আমার চট্টগ্রামে থাকাটা আটকে গেল না।
ওই যে শুরু হল থাকা তারপর থেকে আজ অব্ধি কেতে গেল ২ টা বছর চট্টগ্রামে থেকে গেলাম ভালবেসে ফেললাম তাকে।।যশোরের পর যাকে আমার ২য় হোম বলে মনে হয়...
দুই বছরের চট্টগ্রাম বা চুয়েট বা হল লাইফের প্রাপ্তি টা অনেক।। অন্য অনেকের মত একটা ভাল গুন আমার নেই তা হচ্ছে চট করে কারো সাথে মিশে যাবার ক্ষমতা ব্যাপার টা হতে একটু সময় লাগে।। তবুও এমন কত জন কে পেয়ে গিয়েছিলাম যাদের কে আমার টেনে নিতে হয় নি তারাই আমাকে তাদের কাছে টেনে নিয়েছিল এই তো তাদের সাথে ওই নবীন শিশুটির পথ শুরু হয়ে গেল সবাই নবীন ছিল কেউ কারো থেকে বেশী অভিজ্ঞ ছিল না তবুও সবাই সবাইকে ধরে ছিল।। দুই বছরের লাইফের তিক্ত অভিজ্ঞতাটাও নেহায়েত কম ছিল না র্যাগ এর শিকার ওই ছেলেটা অসংখ্য বার সিনিয়র দের হাতে নাস্তানাবুদ হয়েছে চরম মাত্রায় র্যাগিং শিকার ঐ ছেলেটা তবুও চট্টগ্রামে থেকে গিয়েছিল জানি না কার টানে কিসের টানে ।।
ছেলেটা যে সাবজেক্টে পড়ে তার নাম হচ্ছে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা শহর আর গ্রাম নিয়ে তার পড়াশুনা ছেলেটা শহর খুব ভালবাসে কিন্তু গ্রাম তার খুব একটা ভাললাগে না গ্রামের অসাধারন ছবি তাকে মুগ্ধ করে কিন্তু তবুও গ্রাম তার কিছুটা অপ্রিয়। তবু ছেলেটা ঠিক শুরু করে নিয়েছিল শুরুর দিকে তার ছিল ব্যাসিক ডিজাইন হাবি জাবি সব আকাআকি ছেলেটা আকাআকি একদমই ভালবাসতো না কারন আকাকাকি সে ভাল পারেনা তারপর কিছু দিন পর ছেলেটার সাব্জেক্ট টা ভাল লেগে গেল যদিও কিছু বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে যায় ছেলেটা ঢাকায় থাকার শেষ অপচেষ্টা হিসাবে আরেক বার সুযোগ নেওয়ার জন্য একদিন সবার থেকে বিদায় নিয়ে ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নিয়ে সি এন জি ডাকতে চলে গেল যদিও তাকে সবাই খুব বোঝালো তবুও সে কিছুতেই বুঝলো না কিন্তু দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্য যাই বলি না কেন ঐ দিন একটা সি এন জি ও সরাসরি জি ই সি যেতে রাজি হল না ছেলেটা একটা আফ লিটার ফান্টা কিনল তারপর উলটা দিকে হেটে রুমে ফিরে এসে বলল যাব না থেকেই গেলাম ওই সেই যে থেকে গেলাম আর আজও আছি একন এই যে আমি আমার হলে বসে লিখছি এর মধ্য কিভাবে যেন কেটে গেল কিছুতেই কিছু বুঝতে পারলান না তবুও।
২ বছর চট্টগ্রামে থেকে যেমন অনেক ভাল বন্ধু পেয়েছি তেমনি অনেক মজার দিন রাত কাটিয়েছি কত জায়গায় টুর দিয়েছে কত রাত না ঘুমিয়ে গল্প করেছি প্রজেক্টের কাজে কত রাত জেগেছি কোন দিন আফসোস হয় নি কেন থেকে গেলাম...
তারপর এই যে ভালই আছি মুল লেখার উদ্দেশ্য ছিল গতকাল আমাদের ব্যাচের মানে ১১ ব্যাচের ক্যাম্পাস লাইফের দুই বছর পূর্ণ হয়ে গেল যদিও মূল লেখা থেকে বের হয়ে এসে অনেক কথা বলে ফেললাম জানি এত বড় লেখটা তেমন কেউই কষ্ট করে এসে শুনবে না তবুও নিজেকেই বলে গেলাম না হয়।।
আমাদের ব্যাচের একটা নাম দিয়েছে সবাই পেলিনড্রোম ১১ । যদিও এই নামের একটা ব্যাখ্যা আছে পেলিনড্রোম মানে হচ্ছে এমন সংখ্যা যাকে আগে পিছে করলে কোন পরিবর্তন হয় না ১১ কে আগে পিছে করলেও কোন চেঞ্জ হয় না আমরা বিশ্বাস করি ১১ মানেই সবাই এক যতই বিন্যাস সমাবেশ করি না কেন ১১ এগারোই থাকবে তাই ১ দিন পরে হলেও বলছি শুভ জন্মদিন পেলিনড্রোম ১১...
ওবায়দুর রহমান সজল
০৮-০৫-২০১৪
চট্টগ্রাম
শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৩
শহুরে অন্ধ কবি
ফাকা রাস্তায় হাটতে হাটতে অথবা দুরন্ত যানের দুরন্ত গতিতে যেতে হঠাত করেই পরিবর্তন হয়ে যায় চারদিক । তার পর শুরু হয় উন্নত জীবনের নিম্নতর ধারা । শুরু হয় গ্রাম থেকে শহর , শহরের রাস্তা , শহরের বিল্ডিং , শহরের আলো , শহরের যানগুলা , আর শহরের সেই মানুষ গুলার ব্যাস্ত পথচলা । জীবনের গতিবেগ। তারপর ব্যাস্ত জীবনের ব্যাস্ত সময় কাটানো । তারপর নির্জনতা । ঘুমায়ে পড়া আর জেগে ঊঠা । । ।
আমি এক অন্ধ কবি । আমি খুব শহর ভালবাসি ।অথচ এই আমাকেই থাকতে হচ্ছে জীবনের পড়াশুনার প্রয়োজনে এক গ্রামে কারন আমার বিশ্ববিদ্যালয়টা গ্রামে অবস্থিত । আমার কিছু করার নাই আমাকে গ্রামে থাকতেই হয় ।
আমি খুব শহর ভালবাসি অথচ এই আমি জীবনের প্রথম ২০ টি বছর কাটিয়েছি একটি ছোটখাট মফস্বল শহরে যেখানে ছিল না সুউচ্চ পাহাড় সম বিল্ডিং অসংখ্য যান বড় বড় শপিং মল। । অথচ এখানে ছিল জীবন ধারনের জন্য সব কিছুই বুক ভরে শ্বাস নেওয়া যেত কখনো ভাবতে হত না যে যা নিচ্ছি তা নিরাপদ কিনা । । । তবুও শহর আমি অনেক ভালভাসতাম । ।
আমি খুব শহর ভালবাসি । শহর আমার অনেক ভালো লাগে । শহরের সব কিছুই আমার ভাল লাগে । ।
শহরের রাস্তার নিয়ন আলো আমার ভীষন প্রিয় এই আলো ধরে ফাকা রাস্তায় হাটতে আমার ভাল লাগে। যদিও শহর ক্ষনো ফাকা হয় না । সকালে ঘুম থেকে ঊঠে শহরের শব্দ শুনতে আমার ভালো লাগে ।
আমার ভালো লাগে বড় বড় বিল্ডিং শপিং মল । । আর সেগুলা যেখানে এক সাথে অনেক মানুষ পাওয়া যায়। শুহরের রাস্তার পাশে দাড়িয়ে চা খাওয়া , বন্ধুদের সাবথে আড্ডা মারা অথবা বিনা প্রয়োজনে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো। ।
আমি খুব শহর ভালবাসি উচু বিন্ডিং এর ছাদে বসে দুরের আকাশ অথবা নিচ থেকে আকাশের পানে উঠে যাওয়া টাওয়ারের মাথায় জ্বলে থাকা লাল আলো উচু বিল্ডিং এর উপরে ঊঠা বা ক্রমাগত আলোর ঝল্কানি দেখতে ।
আলো আমি অনেক ভালবাসি । শর আর গ্রামের মূল পার্থক্য হচ্ছে আলো শহরে অনেক আলো চোখ ঝলসে যায় গ্রামে আলো অনেক অল্প নিজেকে নিজে দেখতে পাওয়া যায় না। । শহরে অনেক আলো এই জন্য আমি শহর ভালবাসি । । ।শহরের রাস্তায় বাড়ীতে অনেক আলো। । । । । আলোর খেলা । । । ।
আমি খুব শহর ভালবাসি । । । খুব উন্নত শহর। । । ।
আমি খুব শহর ভালবাসি কারন শহরে সব পাওয়া যায় । ।জীবন যেখানে শুরু হয় । তাই শহর । আমি শহর ভালবাসি কারন শহর আমাকে ডাকে । শহরের ব্যাস্ত রাস্তায় হর্ন বাজাতে বাজাতে বাইক চালাতে আমার ভালো লাগে ।
আমি খুব শহর পাগল ।
অথচ আমি গ্রামে থাকি । । । । । । । । ।
আমি শহরে যেতে চাই অনেক বড় শহর । । অনেক সুন্দর শহর । । ।যে শহর কখনোই ঘুমাইনা । আমি সেই শহরেই যেতে চাই ।
আমি খুব শহর ভালবাসি । । । । । । । । ।
মানচিত্র
ঘড়িটা কানের খুব কাছে নিলে ঠক ঠক আওয়াজ শোনা যায় ।
খুব অল্প আলোতে একজন মানুষকে হাটতে দেখলে বঝা যায় না যে মানুষটা আসছে নাকি যাচ্ছে, খুব অবাক লাগে।
প্রতি মুহূর্তেই স্মরন করিয়ে দেয় শেষ হয়ে আসছে সময়। ছোট্ট এই জীবন সময়ে কি থাকা উচিত আর কি বা না থাকা উচিত প্রায়ই ভাবতে ইচ্ছে করে কিন্তু কোথাও একটি যায়গায় গিয়ে বারে বারে আটকে যায় আমি কিছুতেই আর আগায় না বিক্ষিপ্ত চেতনা গুলা, অবশ্য এত ভেবে হবে হবে টাই বা কি আসলে মানুষের জীবন টা একটা ট্রেন গন্তব্যহীন পথে চলা হাতে নিয়ে বসে থাকা এক মানচিত্র বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ট্রেনটা কিছুতেই ওখানে যেতে পারে না, ল্যাপটপের ফ্যানের শো শো শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় কারো কারো। এখনো ঘুমিয়ে পড়েনি পাশের বাসার জিন্স প্যান্ট পরা মেয়েটা, রেডিওর জকি গুলার গলা কিছুতেই থামে না , শীতে কাপতে কাপতে ফেদার টাকে অণ্য কোর্টে পাঠাতে ব্যাস্ত ওরা।
জীওবন খুব অল্প হারিয়ে যাবার পূর্বেই কেউ তাকে হারিয়ে দেয়।অসংখ্যবার ভুল করা অংকটা কিছুতেই মিলে না আমার। এক রাস্তায় থেকে অন্য রাস্তা্র সপ্ন আমি এখনো দেখি ।ভুলে ভরা ঐ ডায়েরী টা আমারই জীবনের একটা অংশ , না বুঝে লেখা কবিতার চরণগুলা আমি আজও বারে বারে মিলিয়ে বাস্তবতার সাথে ।
শেশ হয়ে রাত ফোনের ব্যাটারী লাল হতে হতে একসময় হারিয়েই যায় , অবাক লাগে জীবন এত বৈচিত্র কেন?
খুব অল্প আলোতে একজন মানুষকে হাটতে দেখলে বঝা যায় না যে মানুষটা আসছে নাকি যাচ্ছে, খুব অবাক লাগে।
প্রতি মুহূর্তেই স্মরন করিয়ে দেয় শেষ হয়ে আসছে সময়। ছোট্ট এই জীবন সময়ে কি থাকা উচিত আর কি বা না থাকা উচিত প্রায়ই ভাবতে ইচ্ছে করে কিন্তু কোথাও একটি যায়গায় গিয়ে বারে বারে আটকে যায় আমি কিছুতেই আর আগায় না বিক্ষিপ্ত চেতনা গুলা, অবশ্য এত ভেবে হবে হবে টাই বা কি আসলে মানুষের জীবন টা একটা ট্রেন গন্তব্যহীন পথে চলা হাতে নিয়ে বসে থাকা এক মানচিত্র বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ট্রেনটা কিছুতেই ওখানে যেতে পারে না, ল্যাপটপের ফ্যানের শো শো শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় কারো কারো। এখনো ঘুমিয়ে পড়েনি পাশের বাসার জিন্স প্যান্ট পরা মেয়েটা, রেডিওর জকি গুলার গলা কিছুতেই থামে না , শীতে কাপতে কাপতে ফেদার টাকে অণ্য কোর্টে পাঠাতে ব্যাস্ত ওরা।
জীওবন খুব অল্প হারিয়ে যাবার পূর্বেই কেউ তাকে হারিয়ে দেয়।অসংখ্যবার ভুল করা অংকটা কিছুতেই মিলে না আমার। এক রাস্তায় থেকে অন্য রাস্তা্র সপ্ন আমি এখনো দেখি ।ভুলে ভরা ঐ ডায়েরী টা আমারই জীবনের একটা অংশ , না বুঝে লেখা কবিতার চরণগুলা আমি আজও বারে বারে মিলিয়ে বাস্তবতার সাথে ।
শেশ হয়ে রাত ফোনের ব্যাটারী লাল হতে হতে একসময় হারিয়েই যায় , অবাক লাগে জীবন এত বৈচিত্র কেন?
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
My Favourates
নৈঃশব্দবতী ০১
আমার প্রায়ই সেই রাতটার কথা মনে পড়ে , সেই দীর্ঘ রাতটার কথা , প্রতিটি শীতের রাতের যোগফলের থেকেও দীর্ঘ সেই ...
-
মানুষের জীবনে কোন কিছুই কি স্থায়ী আর একেবার শেষ হয়ে যায় নাকি কিছুটা হলেও থেকে যায়?কোন মানুষই কি পারে নিজেকে সরিয়ে নিতে অচেনা এক জগতে?আ...
-
মেঘ কিন্তু অনেক বেশী সুন্দর হয়তবা যতটা কল্পনা বা ভাববার দেওয়াল আছে তার তুলনায় বহুগুন অধিক।বিশেষত যখন আকাশটা অনেক নীল দেখায় সূর্যটা তার ...